নির্বাচনের অনুমতি পেল বিসিবি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:১৬
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক দেয়া সংশোধনী গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনগত বাধা দূর হয়েছে। তবে ওই গঠনতন্ত্রের অধীনে করা নির্বাচনে গঠিত কমিটির বৈধতা নির্ভর করবে এ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া চূড়ান্ত রায়ের ওপর। এনএসসি ও বিসিবির করা আবেদন গ্রহণ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ। গতকাল ওই দুটি সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে তাদেরকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রসঙ্গত ২০১২ সালের নভেম্বরে বিসিবির গঠনতন্ত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক আনীত সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন বিসিবির সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এবং বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু। ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালত রুল জারি করেন ও সংশোধনীর ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেয়। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত এনএসসির সংশোধনীকে অবৈধ বলে রায় দেন। পরে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির কোর্টে আবেদন করে এনএসসি ও বিসিবি। এরপর চেম্বার জজ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিসিবি ও এনএসসি ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন। গতকাল ওই লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো। গতকাল ওই আবেদনের ওপর বিসিবির পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এনএসসির পক্ষে এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম এবং রিট আবেদনকারিগণের পক্ষে এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও এডভোকেট কেএম হাফিজুল আলম শুনানি করেন। শুনানিতে বিসিবি ও এনএসসির আইনজীবীরা বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে মডেল গঠনতন্ত্র দেয়ার ক্ষমতা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের রয়েছে। যাদের মডেল গঠনতন্ত্র দেয়ার ক্ষমতা আছে, তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করারও ক্ষমতা রাখেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ক্রীড়া পরিষদ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দিয়েছে। তারা বলেন, এই মামলা জটিলতার কারণে যদি বিসিবির নির্বাচন না হয়, তাহলে আমাদের আইসিসির সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। এই সদস্যপদ বাতিল হলে দেশে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই অবিলম্বে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। জবাবে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এনএসসির মডেল গঠনতন্ত্র দেয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু বিসিবির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১১ ধারা অনুসারে এই ক্ষমতা শুধু একমাত্র বিসিবির। তবে এই ধারা অনুসারে বিসিবি গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবনা এনএসসিতে পাঠাবে। এনএসসির কোন পরামর্শ থাকলে তারা সেটা বিসিবির কাছে পাঠাতে পারে। তিনি বলেন, এনএসসির কোন প্রস্তাব বিসিবির সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হতে হবে। এনএসসি নিজে থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না। বিসিবির সাধারণ পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এনএসসি কর্তৃক দেয়া সংশোধনী গঠনতন্ত্রের কোনো বৈধতা নাই। বিসিবির গঠনতন্ত্রের ২৬ ধারা অনুসারে বিসিবিই কেবল তাদের গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবে। উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে আপিল বিভাগ নির্বাচনের অনুমতি প্রদান করে। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালত ক্রিকেট কাউন্সিল ও ক্রীড়া পরিষদের আপিলের আবেদন মঞ্জুর করেছে। একইসঙ্গে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছে। তবে এই নির্বাচন টিকবে কি-না, সেটা আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে। ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক বলেন, আপিলের অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি আদালত আপাতত সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। তবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সংশোধনী বাতিল হলে এই নির্বাচনও বাতিল হয়ে যাবে।