বর্তমানে আমাদের দেশের আউটসোর্সিংয়ের অবস্থা যথেষ্ট ভাল। এক্ষেত্রে আউটসোর্সিং এবং ফ্রীল্যান্স দুটোকে আলাদা করে নেয়া যেতে পারে। কারণ অনেক ছোট-বড় কোম্পানিও এখন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে। মূলত সফটওয়্যারের মার্কেট বাংলাদেশে খুবই কম
আউটসোর্সিংয়ে যুক্ত হতে হলে কোন বিশেষ ধরনের দক্ষতা যার চাহিদা আউটসোর্সিং বাজারে আছে, সেটা অর্জন করতে হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। কাজ করার সময় সততা, কাজের গুণগত মান এবং জমা দেয়ার নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে যথাসম্ভব সতর্ক থাকা উচিত। ধৈর্য রাখতে হবে। ভাল রেটিং পাওয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করার মানসিক শক্তি থাকতে হবে। আউটসোর্সিংয়ে আসলে অনেক কিছুই করা যায়। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নিজেকে প্রস্তুত করা বা নিজের শেখাটা অত্যন্ত পোক্ত করা এবং আউটসোর্সিং সাইটগুলোতে ঢুঁ মারা। বর্তমানে আমাদের দেশের আউটসোর্সিংয়ের অবস্থা যথেষ্ট ভাল। এক্ষেত্রে আউটসোর্সিং এবং ফ্রীল্যান্স দুটোকে আলাদা করে নেয়া যেতে পারে। কারণ অনেক ছোট-বড় কোম্পানিও এখন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে। মূলত সফটওয়্যারের মার্কেট বাংলাদেশে খুবই কম। বেশির ভাগ কাজই বাইরের। কাজ জানা থাকলে কাজ পাওয়াটা খুব বেশি কষ্টের নয়। বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বায়াররা কাজ জানে এমন লোক বা কোম্পানি খোঁজে। নতুন যারা ফ্রীল্যান্স কাজে আগ্রহী তাদের জন্য একটি পরামর্শ, টাকা আয় করাই প্রধান উদ্দেশ্য নয়। নিজের শেখাটা চাই আগে। এবং অনেক কিছুতে পণ্ডিত না হয়ে অন্তত যেকোনো একটি বিষয়ে ভাল জ্ঞান থাকা জরুরি। অন্যান্য বিষয়ে বেসিক জ্ঞান থাকলেই চলে। প্রয়োজনে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ আবশ্যক। আর একটা বিষয় মনে রাখা উচিত কাজের পাশাপাশি প্রফেশনাল ধারণা উন্নত করা দরকার। কেউ যদি জানে কিভাবে সমস্যা সমাধান করতে হবে তাহলে কাজ বা ক্লায়েন্টই তাকে খুঁজে নেবে। তবে নিজেকে লুকিয়ে রাখলে চলবে না। কিছু একটা শুরুর আগে নিজের একটা ওয়েবসাইট হতে পারে নিজের একটা বড় প্লাটফর্ম ।
আউটসোর্সিং খাতে আমাদের দেশের অবস্থান আরও ভাল করার জন্য অবশ্যই আইসিটি খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনুকূল পরিবেশ, দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত একটি সিস্টেম তৈরি করতে হবে। এসব করার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক যুবক ফ্রীল্যান্সার রয়েছে যারা স্বাধীনভাবে আউটসোর্সিং এর কাজ করেন কিন্তু ফ্রীল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে সহজ পদ্ধতিতে অর্থ বা রেমিটেন্স আনার উপায় না থাকায় বেশিরভাগ ফ্রীল্যান্সার তাদের কষ্টার্জিত উপার্জন দেশে আনতে পারছেন না। এজন্য বাংলাদেশে সর্ব প্রথম ‘পেপ্যাল’ এর সেবা অবশ্যই চালু করতে হবে। এর পাশাপাশি ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যাংকিং খাতকে আরও উন্নত করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংকিং খাতগুলো আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। বাংলাদেশে অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং এর বিকাশ ঘটাতে হলে পেপ্যাল এর কোন বিকল্প নেই।
দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে বর্তমানে দেশের তরুণ সমাজের অধিকাংশই শিক্ষিত বেকার। তাই সরকার যদি এই ফ্রীল্যান্সিং খাতকে অগ্রাধিকার দেয় এবং এর উন্নয়নে এগিয়ে আসে তাহলে নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় যে দেশে আর কোন শিক্ষিত বেকার যুবক থাকবে না। কারণ সরকারের সহায়তা পেলে এখন থেকে প্রত্যেক ঘরে একজন করে ফ্রীল্যান্সার তৈরি হতে পারে।
