ঈদ উপলক্ষে চ্যানেলগুলো যে কারসাজিতে মাতেন তাতে দেখা যায়, কে যে কোন ক্যাটাগরির তারকা সেটিই বুঝা মুশকিল। দর্শকদের একঘেঁয়ে চোখ তারকাদের একই রকমভাবে দেখতে পছন্দ করেন না বলেই হয়তো চ্যানেলগুলোর এই বদলের মহাযজ্ঞ শুরু হয় সর্বত্র। এবারের ঈদেও এর কমতি নেই। সর্বত্র বিভিন্ন সেটে শুটিং স্পটে চলছে অনুষ্ঠানের শুটিং। এর ভেতরে অনেকদিন পর এবারে ছোট পর্দায় নতুন করে কামব্যাক করছেন অপি করিম। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ইন্টারভিউতে তিনি বলেছেন, অভিনয় করতে নাকি তার আর ভালো লাগে না। তাই এবারের ঈদে পুরোদস্তুর উপস্থাপক হিসেবেই থাকছেন। যদিও অপি করিমের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভালো নাটকের পাশাপাশি টার্নিং পয়েন্ট ছিল বাংলাভিশনে শামীম শাহেদের পরিকল্পনায় ‘আমার আমি’ অনুষ্ঠানটি। যা এখন প্রফেশনাল উপস্থাপক মুনমুন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। শুধু অপি করিম নয়, চ্যানেলগুলোতে যারা জীবনেও কখনও উপস্থাপনায় আসেননি তাদেরকে দিয়ে হয় উপস্থাপনা। যারা কখনও নাচেননি তাদের নিয়ে নাচ, যারা কখনও অভিনয় করেননি তাকে দিয়ে অভিনয়টাই যেন এ সময়ের অন্যতম চমক! তবে এই চমকে সত্যিকার অর্থেই দর্শক কতটা চমকিত হয়ে থাকেন বা হবেন তা দেখার বিষয়। এবারে গান থেকে অভিনয়ে এসেছেন ক্লোজ আপ তারকা মেহরাব, অন্যদিকে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বিপ্লব বেশ আলোড়ন তুলেছেন মিডিয়ায়। তবে বিপ্লবের অভিনয় ঈদের জন্য নয়। এদিকে জননন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’তে এবারে নেচেছেন হূদয় খান ও কণা। এ ছাড়াও অভিনয় শিল্পী নিপুণ চলচ্চিত্রেই যার এখনও কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি হয়নি, তিনি এবারে একাধিক অনুষ্ঠানে কখনও নৃত্যশিল্পী বা কখনও উপস্থাপকের ভূমিকায়। এশিয়ান টেলিভিশনে একাধিক শিল্পীদের নিজের ক্যারিয়ার পরিচিতি রদবদল করেই যেন চমক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এই চ্যানেলে অভিনেত্রী দিতি ও চম্পা উপস্থাপকের ভূমিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে একাধিক চ্যানেল তাদের উপস্থাপকদের নিয়ে আলাদা অভিনয় বা কোনো অনুষ্ঠানের বিশেষ চরিত্রে এনে চমক লাগানোর চেষ্টা করেন। তারিনসহ বেশ ক’জন অভিনয় শিল্পী গান নিয়ে ছোট পর্দায় হাজির হয়ে চমক লাগানোর চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া ঈদের অবধারিত অনুষ্ঠান লাইভ কনসার্টেও কণ্ঠশিল্পী, অভিনয়শিল্পীদের বসিয়ে দেওয়া হয় উপস্থাপনার চেয়ারে। যেন শিল্পীর গানের চাইতে ওইখানে চমক দেওয়াটাই মুখ্য। গেল ঈদে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে কুমার বিশ্বজিত্ উপস্থাপনা করে যে পারিশ্রামিক নেন, অনেক ক্ষেত্রে তা শিল্পী বাজেটকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে অনেকে জানিয়েছেন। তাই অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু মুখ্য নয়, কোনোমতে দর্শক নয়নে চমক লাগানোই যেন মূল উদ্দেশ্য হয়ে পড়ে। আর এই চমক লাগানোর অভিযাত্রার রেশ যেন ঈদ পরবর্তী সময়ও থাকে বেশ কিছুটা। তবে এই প্রবণতায় মূল ধারার উপস্থাপকেরা বিশেষ দিবসের জন্য খুব একটা যুত্সই হন না, এটাই বোধ করি প্রমাণ হয় বারবার।
ঈদে মূলত এই প্রবণতায় দর্শকদের ভিন্ন আনন্দ দিতেই তৈরি করা হয়। তবে চমক লাগানোই শুধু মূল বিষয় নয়। কারণ অগণিত অনুষ্ঠান প্রচারের ফলে অল্প ক’জন উপস্থাপকের জন্য কাজটি কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে এটি একটি সুষ্ঠু বিকল্প হিসেবেই আমরা বিবেচনা করি।
সৈয়দ আশিক রহমান
প্রধান নির্বাহী, আরটিভি
এখানে মূলত একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক সংকট ছাড়াও অনুষ্ঠানের ধারা বদলানোর জন্যও করা হয়। এটাকে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখি।
আব্দুস সালাম,
চেয়ারম্যান, একুশে টিভি
