শেষ দেখছেন ফেদেরার?

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২০:৩৪
প্রায় এক দশক পর নিজের প্রিয় কোর্টে ফিরে আসা কিংবা র্যাকেট পাল্টানো; কিছুতেই কিছু হলো না রজার ফেদেরারের। র্যাঙ্কিংয়ের ৫৫ তম বাছাই জার্মানির ড্যানিয়েল ব্রান্ডের কাছে হেরে এই সুইস সুপারস্টার গত বৃহস্পতিবার গাস্তাদের ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল সুইস ওপেনের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছেন। এ নিয়ে টানা তিনটি টুর্নামেন্টে ফেদেরারকে ফিরতে হলো শূন্য হাতে। তার চেয়েও অবাক করা তথ্য হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফেদেরার হেরেছেন একেবারেই অখ্যাত সব প্রতিপক্ষের কাছে। বছরের প্রথম দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে ফেদেরারের পারফরম্যান্স একেবারেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারলেও, ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় তাকে। শুধু গ্র্যান্ড স্ল্যাম নয়, এটিপি টুর্নামেন্টগুলোতেও এ বছর তার পারফরম্যান্স একেবারেই ‘ফেদেরার সুলভ’ ছিল না। সঙ্গত কারণেই ফেদেরারের বিদায় আসন্ন কিনা এ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মাস্টার্স টুর্নামেন্টগুলোতে তার পারফরম্যান্সই মূলত এমন প্রশ্ন তুলছে। ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এই সুইস কোন ধরনের শিরোপা ছাড়াই কাটিয়েছেন বছরের প্রথমার্ধ। উইম্বল্ডনের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত জেরি ওয়েবার ওপেনের শিরোপা জিতে সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচালেও উইম্বল্ডনে তার ফলাফল ছিল আরো হতাশাজনক। র্যাঙ্কিংয়ে ১১৬ নম্বর অবস্থানে থাকা সের্গেই স্টাখোভোস্কির কাছে হেরে এই টুর্নামেন্টের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ফেদেরার বিদায় নেন মাত্র দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। অথচ, একই গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে অষ্টম শিরোপা জিতে রাফায়েল নাদালকে ছোঁয়ার বিরল সুযোগ ছিল তার সামনে। উইম্বল্ডনের পর গত সপ্তাহে জার্মান টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফেদেরার হেরে গেছেন অখ্যাত আর্জেন্টাইন ফেদেরিকো দালবেনিসের কাছে। দুর্দশার কাহিনী শেষ নয় এখানেই। বছরের সাত মাস কেটে গেলেও জেরি ওয়েবার ওপেনের সেই শিরোপাটিই ফেদেরারের জন্য এবছর সবেধন নীলমনি হয়ে আছে। পেশাদার ক্যারিয়ারে ৭৭টি একক, আটটি দ্বৈত এবং দুটি অলিম্পিক পদকের মালিক ফেদেরারকে শেষ কবে এমন শিরোপা খরায় ভুগতে হয়েছে সেটা হয়তো ফেদেরার নিজেও মনে করতে পারবেন না। এবছর ফেদেরারের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বুলালেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সবকিছু। ২০০০ সালের পর এ বছরই ফেদেরারের জয়ের হার সবচেয়ে কম। এবছর এখন পর্যন্ত ৩০ টি ম্যাচ খেলে দশটিতেই হেরেছেন তিনি। যেখানে গত বছর ৭১ ম্যাচের বিপরীতে হেরেছিলেন ১১ টি ম্যাচ। শুধু হার নয়, প্রশ্ন উঠতে পারে তিনি কাদের কাছে হেরেছেন সেই বিষয়টি নিয়েও। গত তিনটি টুর্নামেন্টে তাকে হারিয়েছেন সেই খেলোয়াড়দের এটিপি র্যাঙ্কিং যথাক্রমে ১১৬, ১১৪ এবং ৫৫! বছর জুড়ে এমন বাজে পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়েও। প্রথম সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালেই জয় পাওয়ার একমাত্র রেকর্ডের অধিকারি খেলোয়াড়টি দুই নম্বরে থেকে বছর শুরু করলেও, এখন এসে ঠেকেছেন পাঁচে। যা কিনা গত দশ বছরে তার জন্য সর্বনিম্ন। এই ‘হতাশাজনক যাত্রা’ কাটাতেই কিনা ফেদেরার ১০ বছরের বিরতিতে আবারো ফিরেছিলেন গাস্তাদে। এই গাস্তাদেই ১৯৯৮ সালে ৭০২ র্যাঙ্কিংধারী ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফেদেরার শুরু করেছিলেন নিজের পেশাদার টেনিস ক্যারিয়ার। এরপর ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়ে ২০০৪ সালে আবারো এখানে আসেন তিনি, জেতেন শিরোপাও। ওই বছর থেকেই বাড়তে থাকে ফেদেরারের জনপ্রিয়তা, হয়ে ওঠেন ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারদের একজন। তবে স্মৃতিবহুল এই ভেন্যু এবার আর সৌভাগ্য বয়ে আনলো না তার জন্য। মাত্র ৬৫ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-৩, ৬-৪ গেমের এই হারের পর হতাশা লুকাতে পারেননি ফেদেরারও। পাঁচটি সুযোগ পেয়েও প্রতিপক্ষের সার্ভে পয়েন্ট তুলে নিতে ব্যর্থ হওয়া ফেদেরার বলেন, ‘আমি শেষ দিকে ততটা ধারাবাহিক ছিলাম না। সে ভাল সার্ভ করছিল এবং ফিরতি শটে আমি ভাল কিছু করতে পারছিলাম না।’ তবে গাস্তাদের এই হারকেই ক্যারিয়ার সংহারি বলে মানতে চাচ্ছেন না ফেদেরার। বরং নতুন র্যাকেটের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পিঠের ব্যথার সাথে পাল্লা দিয়ে কোর্টে লড়ে যেতে পারাকেই বড় করে দেখতে চাইছেন তিনি, ‘খেলতে পেরেই আমি খুশি। কারণ গত বেশ কিছুদিন ধরেই আমি সমস্যায় ভুগছি। হামবুর্গে ( আগের টুর্নামেন্ট) থাকার সময় এটা শুরু হয়েছিল। তবে আজকের ম্যাচে এটা আমাকে খুব বেশি ভোগায়নি।’