মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্পাঠ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:০৪
ছিপছিপে গড়নের দুই তরুণী। হাতে শাপলার ঝুড়ি নিয়ে হাঁটছেন। শাপলার নিচেই গ্রেনেড। যেই গ্রেনেডে কুপোকাত্ পাকিস্তানের সেনারা। বাঙালির গৌরবের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় স্বাধীনতা সংগ্রামের এমন ছবি-চিত্র নিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ইতিহাসের পোর্ট্রেট’। জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। ৩০ জুলাই এ প্রদর্শনী শেষ হবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে। এদিকে গতকাল দুপুরে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রস্তুতি কাজে বাধা দেয় পুলিশ। এতে কয়েকঘণ্টা বিলম্বে প্রদর্শনী শুরু করতে হয় আয়োজকদের। পুলিশের এ বাধার প্রতিবাদ জানিয়েছে মঞ্চ। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আজ শনিবার এ প্রদর্শনী শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছেন আয়োজকরা। সমাপনীদিনে কালো ব্যাজ ধারণ করেও তারা প্রতিবাদ জানাবেন। গতকাল বিকাল পৌনে চারটার দিকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যেমন অতীত গৌরব স্মরণ করবেন তেমনি নতুন প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্ম্য নতুন করে উপলব্ধি করতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মরণ আমাদের জন্য হবে ইতিহাসের পুনর্পাঠ, গৌরবের পুনর্জাগরণ। আলোকচিত্রশিল্পী শহীদুল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট এবং বড় পরিসরে কোনো সংগ্রহশালা নেই। প্রদর্শনীতে আনা ছবিগুলো ১৯৯৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি জাতীয় সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করা খুবই প্রয়োজন। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অনেক গৌরবময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন আমাদের শিল্পীরা। কাঁচা হাতেও তৈরি হয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী। নতুন প্রজন্ম এবং তরুণদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ প্রেরণার বাতিঘর। সেই চেতনা এবং প্রেরণা আরো শাণিত ও জাগ্রত করতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন। স্কুলগামী শিশুরাও এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি এর চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মারূফ রসুল। এদিকে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাধা দেয়া প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীতে বাধা দেয়া হয়নি। দুপুরে বাঁশ দিয়ে তারা রাস্তা বন্ধ করে দিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। যানজট সৃষ্টির আশংকায় তাদেরকে একপাশে প্রদর্শনী আয়োজন করতে অনুরোধ করে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।