ফিস অয়েল ক্যাপসুল কি উপকারী

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:০৬
মাছের তেল হার্টের জন্য ভালো। বিশেষ করে মাছের তেলে ওমেগা-৩ নামক ফ্যাটি এসিড থাকে। এই ওমেগা-৩ হার্টের জন্য হিতকর এবং হার্ট এ্যাটাক প্রতিরোধে সহায়ক। এমন ধারণা সকলের। কিন্তু মাছের তেলের এই যাদুকরী গুণকে পুঁজি করে ফিস অয়েল ক্যাপসুল বা ফিস অয়েল নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের যে ব্যবসা চলছে। আসলে ওমেগা-৩ নামের এই ফিস অয়েল আসলেই কি হার্টের জন্য ভালো এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞগণ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টের বাজার রয়েছে ১০০ কোটি ডলারের। হার্টের জন্য উপকারী এমন তথ্যের কারণে ডাক্তাররাও ওমেগা-৩ প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকেন। হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকায় ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্ট নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে এ ধররে ডায়েটরী সাপ্লিমেন্ট যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে কোন উপকারে আসে এমন কোন তথ্য পাননি গবেষকগণ। যাদের হার্টের কমবেশি সমস্যা আছে এমন ২০ হাজার ৪৮৫ জন রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। বিভিন্ন ধরনের হূদরোগ, স্ট্রোক, বুকে ব্যথা ও হার্ট ফেইলিওর-এর রোগীদের এক বছর ধরে ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্ট বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দিয়ে চিকিত্সা করা হয়। আর্কাইভস অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিনে গবেষকদের প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টে বলা হয়, যাদের ওমেগা-৩ ডায়েটরী সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে দেয়া হয় তাদের হূদ ও অন্যান্য সমস্যায় উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হয়েছে এমন প্রতীয়মান হয়নি। হারভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর গবেষক ড. ফ্রাংক বি হু এবং ড. জোঅ্যান ম্যানসন মনে করেন, ফিস অয়েল এর হার্ট বেনিফিট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গবেষণায় যথেষ্ট সময় নেয়া হয়নি। এই দুই গবেষক উল্লেখ করেছেন হূদরোগ প্রতিরোধে ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টের কিছুটা ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে। ফিস অয়েল সংক্রান্ত নতুন গবেষণা মূল্যায়নের প্রধান অথার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের কার্সিনোজেনেসিস ব্রাঞ্চের প্রধান ড. সিউং কোন মিউং উল্লেখ করেছেন ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টে হূদরোগ প্রতিরোধ বা হার্ট ভালো রাখতে কোন ভূমিকা রাখে এমন কোন উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তাদের কাছে নেই। ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্ট নিয়ে নতুন এই গবেষণার অথারগণ ওমেগা-৩ নামের ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টের পিছনে কাড়ি কাড়ি টাকা না খরচ করে সেই টাকা দিয়ে আসল মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে বরং স্বাস্থ্যের উন্নতিসহ হার্টের উপকারে আসবে। আর মাছ বেশি আহার করলে অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন ও রেড মিট এর ওপরও নির্ভরশীলতা কমবে। আর এটা সুস্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই জরুরি। লেখক : চুলপড়া, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ