নোয়াখালির সোনাইমুড়ি থানার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম। স্বামী অলিউল্লাহ ক্ষেতমজুর। তাদের দুই মেয়ে এক ছেলে। সম্পদ বলতে বসতভিটাটুকুই। অভাবের সংসার চালানোর পর টাকা সঞ্চয়ের মত ফুসরত হয় না। এ অবস্থার পরও রাজিয়া বেগম দু’টি গরু কিনেছেন। আর এ গরু কিনতে জনতা ব্যাংক বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। এ ঋণ পরিশোধে সময় দিয়েছে আট মাস। এতে বিত্তহীন এ নারী সাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটতে শিখছেন। একইভাবে গরু পালনের জন্য ঋণ পেয়েছেন সেলিনা বেগম। বিত্তহীন এ দুই নারীর মত এখানকার ১৫৯ জন কৃষকের মাঝে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করেছে সোনাইমুড়ি শাখা।
কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার কৃষক নুরুল হক, নাসিরউদ্দিন, ইউনুসসহ অনেকেই প্রথমবারের মত কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপে ধান ও সব্জি চাষের জন্য তারা প্রত্যেকে গড়ে ১৫ হাজার টাকা করে ঋণ পেয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক তাদের এ ঋণের ব্যবস্থা করেছে। এ ঋণে তাদের কোন সুদ গুনতে হবে না আবার ফেরত দেয়ার জন্য সময়ও পাবেন আট মাস। ফলে ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করে দিলে কৃষকদের যে লোকসানের মুখে পড়তে হয় তার হাত থেকে রেহাই পাবেন তারা। এর মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।
এ এলাকার ৮৩ জন কৃষককে ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ঋণের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করতে হতো। তাতে চাষ করার পর বাড়তি কোন টাকা হাতে থাকত না। ব্যাংকের সুদমুক্ত এ ঋণ পাওয়ায় কৃষকরা চিন্তামুক্তভাবে চাষ করে টাকা ফেরত দিতে পারছেন। এজন্য এ ঋণকে ভাগ্য পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে দেখছেন তারা।
২০০৯ সাল থেকে প্রান্তিক কৃষক ও বিত্তহীন মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সুদমুক্ত এ ঋণ কার্যক্রম শুরু করে জনতা ব্যাংক। গত তিন বছরে ব্যাংকের ৫১টি শাখার মাধ্যমে প্রায় ১১ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ১২ হাজার ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষক এ ঋণের উপকারভোগী। প্রথমদিকে প্রত্যেক কৃষককে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ দিত জনতা ব্যাংক। উত্পাদন খরচ বাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করে এখন ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এখন আগেকার তুলনায় ঋণ পরিশোধের সময়ও বাড়িয়ে করা হয়েছে আট মাস।
এ ঋণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিকরুল হক বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের উদ্যোগে জনতা ব্যাংকই তিন বছর আগে প্রথমবারের মতো বিনা সুদে ঋণ দেয়া শুরু করে। গ্রাম্য মহাজন ও সুদি কারবারীদের সুদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ঋণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, বিতরণকৃত টাকার ১০০ ভাগই আদায় হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও এ ধরনের ঋণ সুবিধা চালু করলে দরিদ্র কৃষকদের মাঝে ফসল চাষে উত্সাহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
