বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশনের লোকসানের পরিমাণ প্রতি বছর স্ফীত হচ্ছে। পুঞ্জিভূত লোকসান দু’ হাজার ২২২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। করপোরেশনের হিসাব বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা যায়, গত অর্থ বছরে (২০১২-২০১৩) লোকসান হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা।
এদিকে করপোরেশন অবিক্রিত চিনি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। ১৫টি চিনি কলের গুদামে এক লাখ ১৬ হাজার টন চিনি মজুত রয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের গুদামে ৩৬ হাজার টন আমদানিকৃত চিনি পড়ে আছে। যার মোট মূল্য ৭শ’ ৬০ কোটি টাকা। বারবার দাম কমিয়েও এ চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমানে করপোরেশনের দেশে উত্পাদিত প্রতি টন চিনির দাম ৫০ হাজার টাকা।
অর্থাত্ প্রতি কেজির দাম ৫০ টাকা। আর আমদানিকৃত চিনির দাম দফায় দফায় কমাতে কমাতে প্রতি কেজির দাম ৩৯ টাকা ধার্য করেছে। এ চিনির প্রতি কেজির আমদানি মূল্য ৬২ টাকা ছিল বলে জানা যায়। খোলা বাজারে দেশে রিফাইনারিগুলোর উত্পাদিত চিনির দাম অনেক কম হওয়ায় চিনি শিল্পের করপোরেশনের ডিলারগণ মিল থেকে চিনি তুলছে না। সিটি গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিত্ সাহা জানান, তাদের মিলের পাইকারি দরে প্রতি কেজি চিনি ৪১ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর চিনি প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৫ টাকা দরে। বর্তমানে দেশে রিফাইনারিগুলোর মধ্যে সিটি, মেঘনা, ঈগলু, দেশবন্ধু ও পার্টেক্স রিফাইনারি মিল চালু আছে। এ দিকে চিনি রপ্তানির গতিও মন্থর। বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন ৫০ হাজার কেজি চিনি রপ্তানির অনুমতি পায়।
করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, মিলগুলোর চিনি উত্পাদন খরচ বেড়ে চলেছে। প্রতি কেজি চিনি উত্পাদনে ৯০ টাকা ব্যয় হয়। বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০ টাকাতে। কেজি প্রতি ৪০ টাকা করে লোকসান হচ্ছে। ২০১২-২০১৩ মাড়াই মৌসুমে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ২৯ হাজার ৭৫ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আখের অভাবে এক লাখ ৭ হাজার টন চিনি উত্পাদন হয়েছে। ২০১১ -২০১২ মাড়াই মৌসুমে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩শ’ ৭০ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৫শ’ ৫৯ টন আখ মাড়াই করে ৬৯ হাজার ৩শ’ ৪৬ টন চিনি উত্পাদন হয়েছিল। এ বছর করপোরেশনের লোকসান হয়েছিল দুশো ৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ২০১০-২০১১ মাড়াই মৌসুমে একশ’ ৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। তার আগের মাড়াই মৌসুমে একশ’ ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা লোকসান হয়।
