চৌগাছাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিলগুলোতে শামুক নিধনের ফলে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। যশোর জেলার খাল, বিল, নদী, নালা, ডোবা, বাঁওড়সহ নিচু জলাভূমিতে জন্মে নানা প্রজাতির শামুক। শামুক পরিবেশ ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। একজন প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে শামুককে প্রকৃতির ফিল্টার বলা হয়। হাওর-বাঁওড়, ডোবা-পানির নানা ধরনের পোকা শামুক খেয়ে থাকে। এছাড়াও শামুক বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য। দেশি চুন তৈরিতেও শামুক ব্যবহার হয়ে থাকে। বিগত ১০-১২ বছর ধরে শামুক দক্ষিণের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় ঘেরের মাছের প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের মত্স্য কর্মকর্তাদের মতে, বাজারের ফিস মিলের চেয়ে শামুক তুলনামূলকভাবে সস্তা। ঘেরের মাছের শামুক খাওয়ালে খুব দ্রুত বাড়ে। সেজন্য শামুকের দাম ও চাহিদা বেড়ে চলেছে। চৌগাছা উপজেলার সলুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, বছরের ৪-৫ মাস শামুক শিকার করে সে জীবিকা অর্জন করে থাকে। বর্ষা নামলে জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শামুক কুড়ানো চলে। এক বস্তা শামুক (৪০-৫০ কেজি) একশ’ আশি থেকে দুইশ’ টাকায় বিক্রি হয়। শামুকের বাজার গত বছরের তুলনায় অনেক চড়া। যোগহাটি গ্রামের পারভিনা জানান, ৬ মাস শামুক কুড়িয়ে এবং ৬ মাস মাঠে কাজ করে সে তার ৪ সদস্যের সংসার চালায়।
