প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে আজ থাইল্যান্ডে যাচ্ছে জাতীয় দল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২২:০৪
বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা শহিদুল আলম, মামুন খান, বিপ্লব ভট্টাচার্য, আরিফুল ইসলাম, কেস্ট কুমার, নাসির উদ্দিন, রেজাউল করিম, লিংকন, রায়হান হাসান, ওয়ালী ফয়সাল, মিশুক, মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এমিলি, সোহেল রানা, মিঠুন চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন রনি, তকলিস আহমেদ, জাহিদ হোসেন, ওমর ফারুক বাবু, মোবারক হোসেন, ওয়াহেদ আহমেদ, ইয়ামিন আহমেদ চৌধুরী মুন্না, জামাল ভুঁইয়া ও রিয়াসাত ইসলাম খাতন। জাতীয় ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলতে আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ দেশের মাটিতে কঠোর অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ ২৪ জন ফুটবলার এবং কোচ-কর্মকর্তাসহ ৩১ জনের দল নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন আজ। সেখানে থাইল্যান্ডের জাতীয় দলের বিরুদ্ধেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ দুটি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি অবশ্য ম্যাচদুটির দিনক্ষণ ও ম্যাচ কোথায় হবে তা জানাতে পারেননি কাল। তবে জাতীয় দল থাইল্যান্ডে পৌছার পর ঠিক হবে এটি। সংবাদ সম্মেলনে কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ জানান দলের প্রস্তুতি ভাল হয়েছে এবং এতে তিনি সন্তুষ্ঠ। আগামী সেপ্টেম্বরে নেপালে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট আট জাতির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলের শিরোপা জিতলেও পরে আর সে কৃতিত্বের পুণরাবৃত্তি করতে পারেনি লাল সবুজের দল। ২০০৮ সালে শ্রীলংকা ও ২০১১ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে। তবে ঢাকার মাঠে ২০০৯ সালে সেমিফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক দল। এবার অবশ্য ২০০৩ সালের সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া বাফুফে। এ জন্য ডাচ কোচ ডি ক্রুইফ ও রেনে কোস্টারকে আনা হয়েছে। সাথে আছেন তাদেরই পরামর্শে ফিটনেস কোচ ইয়ামালি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশাপাশি সুইমিংপুল, জিমেও ফিটনেস ঠিক রাখতে ঘাম ঝরিয়েছেন এমিলি, মামুন, মোবারকরা। বিভিন্ন দলের সঙ্গে চারটি প্রীতি ম্যাচের পাশাপাশি নিজেরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। এরই ফলশ্রুতিতে কঠিন প্রস্তুতি নিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছে দলটি। কোচ ডি ক্রুইফ দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, ‘ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। খেলোয়াড়দের অনুশীলন নিয়ে সন্তুষ্ট আমি। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে কারা মাঠে নামবে সেটা চূড়ান্ত না হলেও পুরো দলকেই সেখানে নিয়ে যাচ্ছি।’ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রসঙ্গে ক্রুইফ বলেন, ‘সাফকে সামনে রেখেই মূলত এ প্রস্তুতি চলছে। খেলোয়াড়দের মনোভাব, তাদের সার্বিক প্রস্তুতিতে আমি মুগ্ধ।’ বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রেনে কোস্টার বর্তমানে নেপালে রয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে। জাতীয় দল তার অভাব অনুভব করছে কিনা জানতে চাইলে ক্রুইফ বলেন, ‘রেনে দলের জন্য একজন অপরিহার্য সদস্য। আমিসহ দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই তাকে মিস করছেন। রেনেও খুব দ্রুত সময়ে থাইল্যান্ডে আমাদের সঙ্গে যোগ দিবেন।’ অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘সাফে শিরোপা জিততে আমরা কঠিন অনুশীলন করে যাচ্ছি। গত তিন সপ্তাহ ধরে আমরা ডাচ ফুটবলের নির্দেশনা মতো প্লেসিং, পাসিং ফুটবল অনুশীলন করছি। থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আসার পরও আমাদের নিয়মিত অনুশীলন চলবে।’ এর আগে থাইল্যান্ডে এক প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ০-৫ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেরকমটা হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এবার আমরা পরপর ফেডারেশন কাপ, প্রিমিয়ার লিগ, স্বাধীনতা কাপ, সুপার কাপের মতো টুর্নামেন্টগুলো খেলেছি। বলতে গেলে খেলার মধ্যেই ছিলাম। তাই আশা করছি থাইল্যান্ডে আমরা ভালো খেলা উপহার দিতে পারবো।’ আগামি মাসে পাকিস্তান জাতীয় দলের ঢাকায় আসার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন কাজী নাবিল। তিনি বলেন, ‘১১ আগস্ট ঢাকায় আসবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে ১৩ আগস্ট একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এছাড়া ১৬ আগস্ট বাফুফে একাদশের সঙ্গেও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। বাফুফে একাদশে জাতীয় দলের বেশ ক’জন ফুটবলার থাকবেন।’