এখানকার দর্শক অবিশ্বাস্য। লন্ডনে দৌড়ানোটা খুবই চমত্কার। আবার এখানে আসতে পারাটা দারুণ এক ব্যাপার।
উসেইন বোল্ট লন্ডনে মৌসুমের সেরা সময়ে দৌড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তার প্রস্তুতির জানান দিলেন। গত শুক্রবার লন্ডন অলিম্পিকের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘অ্যানিভার্সারি গেমসে’ ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে ৯.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন ছয়টি অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী বোল্ট।
জ্যামাইকান এই স্প্রিন্টার দর্শক ঠাসা স্টেডিয়ামে ইভেন্টটি জিতে এক বছর আগের লন্ডন গেমসে সোনা জয়ের স্মৃতিতর্পণ করেন। বোল্টের শুরুটা ভাল না হলেও শেষ ৪০ মিটারে গিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যান। তার পেছন থেকে দৌড় শেষ করেন আমেরিকান মাইকেল রজার্স (৯.৯৮)। জ্যামাইকার নেস্তা কার্টার (৯.৯৯) পান তৃতীয় স্থান। বৃটেনের হয়ে দৌড়াতে সক্ষম হওয়া একমাত্র স্প্রিন্টার ডোয়াইন চেম্বার্স পঞ্চম হন ১০.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে।
বৃটেনের জেমস ডাসাওলু বোল্টের সাথে দৌড়ানোর আগে আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা বললেও বাস্তবে তা ঘটেনি। দৌড় শুরুর আগেই বৃটিশ স্প্রিন্টারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক দ্রুততায় দৌড়ানো জেমসকে (৯.৯১) ইনজুরির কারণে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল।
সেসব নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামানোর সময় নেই ২৬ বছর বয়সী বোল্টের। কেননা আগামী মাসে মস্কোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ফিরে পেতে মরিয়া বোল্ট জয়ের পর ৬০ হাজার দর্শকের সামনে আনন্দে অবগাহন করেন। তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে দৌড় শেষে খালি পায়ে ট্র্যাকের চারদিকে ঘুরে বেড়ান। ট্র্যাকে ঝুঁকে চুমু খান। এমনিতেও বর্ষপূর্তির এই আসরে তিনি ছিলেন সবার মধ্যমণি। দৌড়ের শুরুতে তিনি মাঠেও আসেন রাজসিকভাবে, রকেটসদৃশ্য এক মোটরে চড়ে। সব মিলিয়েই দর্শকদের মন জয় করা এই বিশ্ব রেকর্ডধারী বলেন, ‘এখানকার দর্শক অবিশ্বাস্য। লন্ডনে দৌড়ানোটা খুবই চমত্কার। আবার এখানে আসতে পারাটা দারুণ এক ব্যাপার।’
বোল্ট অবশ্য এতকিছুর পরও জানেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তাকে আরো খাটতে হবে। এ কারণেই তিনি বলেন,‘আমার শুরুটা বাজে ছিল এবং এ নিয়ে আমাকে কাজ করতে হবে। নিখুঁতভাবে দৌড়াতে হলে আমাকে ভালভাবে দৌড় শুরু করতে হবে। আশা করি মস্কোতে আমি ভাল সময় দেখিয়ে ভাল করাটা অব্যাহত রাখতে পারবো।’
গেল গ্রীষ্মের পর স্টেডিয়ামটিতে এই প্রথম অ্যাথলেটিক্স আয়োজিত হলো। তবে আগেরবারের সাথে এ দফার তফাত হলো সেসময়ে বোল্ট, মোঃ ফারাহ ও জেসিকা এনিস-হিলরা দর্শকদের বিপুলভাবে মাতিয়ে রেখেছিলেন। অলিম্পিক আসরটি হয়ে উঠেছিল অবিস্মরণীয়। কিন্তু এখন পূর্ব লন্ডনের এ অংশটিতে অবস্থিত অলিম্পিক পার্ক দালান-কোঠার স্তূপে পরিণত হয়েছে, অলিম্পিক মশাল নেই। তারপরও শুক্রবার রাতের দর্শকঠাসা স্টেডিয়ামটি ফিরিয়ে এনেছিল অলিম্পিকের স্মৃতি।
