সমাজবাদী অর্থনীতির মূল ভিত্তি বস্তুবাদ। যার পরিণতি ভোগবাদ, ব্যক্তিবাদ, স্বার্থপরতা। এ অর্থনীতিতে ব্যক্তি সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিক। সম্পদ অর্জন, ভোগ ও বন্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী শোষণ থেকে মানবতাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা নতুন এক দানবাকৃতির পুঁজিবাদে মিশে গেছি। সম্পদ উত্পাদন, বণ্টন ও আবর্তনকে ইসলাম বিশেষভাবে উত্সাহিত করেছে। তাই সত্যিকারার্থে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা চালুর কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে ইসলামী ব্যাংক কনসালটেটিভ ফোরামের (আইবিসিএফ) উদ্যোগে ‘শরি’আহ ব্যাংকিং’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ফোরামের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাবেক অর্থ সচিব ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ আব্দুল হান্নান, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট একে আজাদ এবং আবুল কাশেম, সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক একেএম নুরুল ফজল বুলবুল প্রমুখ। সেমিনারে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের কনসালটেন্ট এম আযিযুল হক ‘যাকাতভিত্তিক সমাজ গঠনে শরি’আহ্ ব্যাংকের ভূমিকা’ এবং ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ‘কোরআনের আলোকে অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যাংকিং’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রবন্ধে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, শুধুমাত্র আর্থিক উন্নয়ন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য নয়। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং দেশের মূলধারার ব্যবস্থায় পরিণত হবে এবং একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশের গোটা ব্যাংক ব্যবস্থা ইসলামী পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হবে।
