গত এক বছরে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকা হতে প্রায় ১১০টি বৈদুত্যিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমার নতুন করে কিনতে গিয়ে গ্রাহকরা ২৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
গ্রাহকদের এত ক্ষতি হলেও ট্রান্সফরমার চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় চুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অন্তর্ভুক্ত কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের নিয়ন্ত্রণে কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া (একাংশ) উপজেলার ৮৯০ কি. মি. বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের আওতায় রয়েছে ২১০টি গ্রাম। গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার ৩ শ’ জন। বিভিন্ন গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ব্যবস্থা চালু রাখতে স্থাপিত পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির খুঁটিতে রয়েছে ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ কেভি ধারণ সম্পন্ন ট্রান্সফরমার। এই ট্রান্সফরমারগুলো এখন আর নিরাপদে নেই। তামা জাতীয় মূল্যবান কয়েলের লোভে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় হানা দিচ্ছে ট্রান্সফরমার চোর চক্র। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১২ সালের জুন হতে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব জালালপুর, শ্রীনাথপুর, যোগিবিল, কামুদপুর, ঘোষপুর, সোনাপুর, মির্জাপুর, ধলাইপাড়, কাঁঠালতলী, রহিমপুর, মইডাইল, মরিছাসহ ৩৫টি গ্রাম ও কুলাউড়া উপজেলার সালন, তিলীশিজুড়া, রাউত্গাঁও, গান্ডারগাঁও, সঞ্জবপুর, লালপুর, বৈদ্যশাশন, লালারচক, সুলতানপুর, গনিপুর, সোনাপুর, হাজীপুর, শরীফপুর, দেত্তগাঁওসহ ৩০টি গ্রাম থেকে ৫ কেভি ৪৫টি, ১০ কেভি ৪৩টি, ১৫ কেভি ১৬টি ও ২৫ কেভি ৭টি মোট ১১০টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির লোকসান হয়েছে ৫৮ লাখ টাকা। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকরা এ মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সভাপতি প্রভাষক আব্দুল আহাদ বলেন, আরইবির নিয়মের কারণে গ্রাহক ট্রান্সফরমার চুরি হলে মূল্য দিতে হয়। বোর্ডের এ বিষয়ে কোন এখতিয়ার নেই। কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী এ এম হাসনাত হাসান বলেন, চোররা যাতে চুরি করতে না পারে সেজন্য সমিতির পক্ষে থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি, লোহার শিকল, নাট ওয়েল্ডিং করা হচ্ছে । গ্রাহকদের সচেতনতা ছাড়া চুরি রোধ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নীহার রঞ্জন নাথ বলেন, এসব বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
