পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স ছাড়াও হজ্ব যাত্রীরা তাদের পছন্দমত এয়ারলাইন্সে সৌদি আরব গমন করতে পারবেন বলে অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য কোন এয়ারলাইন্স হজ্ব যাত্রীদের বহন করতে পারবেন না মর্মে নেয়া আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, এবারে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ্বব্রত পালনে যাবেন। এর মধ্যে ৫০ ভাগ বিমান ও বাকি ৫০ ভাগ হজ্বযাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স বহন করবে। হজ্বযাত্রী পরিবহন খাতে যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স সমূহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যাকআপ উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করবে।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন হজ্ব এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সহ-সভাপতি ও আল মাহমুদ ট্রাভেলস’র স্বত্বাধিকারী আব্দুল কবির খান, মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ ও রেজাউল ইসলাম নামের এক হজ্বযাত্রী। আবেদনে বলা হয়, কেবল দুটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হজ্ব যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত কম্পিটিশন অ্যাক্ট-২০১২ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের মনোপলি সৃষ্টি করার মতো কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশি হজ্বযাত্রীদের সৌদিআরব যাওয়া শুরু হবে। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। কেবল দুটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হজ্বযাত্রী পরিবহন করলে টিকেট পেতে তাদেরকে ওই দুটি বিমান সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে।
আবেদনকারিগণের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও এডভোকেট কেএম হাফিজুল আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোখলেছুর রহমান শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করে।
