টি-টোয়েন্টি সিরিজও পাকিস্তানের

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৬
টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা তখন রীতিমতো নাকানি চুবানি খাচ্ছে। গ্যালারিতে এক দর্শক টি-শার্টে লিখলেন ‘ওর্সট ইন্ডিজ’। আসলেই তাই; নিজেদের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন করুণ অবস্থাকে তুলে ধরতে এর থেকে ভাল কোন উপায় নেই। ওয়ানডে’র পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হারলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নোস ভেল স্টেডিয়ামে রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১১ রানে পরাজিত করে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। নিজেদের করা ৭ উইকেটে ১৩৫ রানের জবাবে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে ১২৪ রানে বেঁধে দিয়ে পাকিস্তান এই জয় আদায় করে নেয়। আর এতে করে শ্রীলংকার পরে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো মোহাম্মদ হাফিজের দল। এর আগে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই হারের পরে র্যাঙ্কিংয়ের চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে দ্বিতীয়বারের মত অল্প রানে আউট করে স্বাগতিকদের হতাশায় ভাসানো পাকিস্তানী অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এটা বেশ কঠিন সফর ছিল। আর সফল এই সফরের পুরো কৃতিত্ব দলের সকলের। সফরটি সাফল্যের সাথে শেষ হওয়ায় আমরা বেশ উপভোগও করেছি। পিচ পর্যবেক্ষণের পরপরই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম ১৩৫-১৪০ রান করতে পারলে আমরা আমাদের চারজন স্পিনার নিয়ে অবশ্যই সফল হবো। আর এতেই কাজ হয়েছে।’ ম্যাচ সেরা উমর আকমলের অপরাজিত ৪৬ রান এবং উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদের ৪৪ রানের উপর ভর করেই পাকিস্তান ১৩৫ রান সংগ্রহ করে যা ধীরগতির পিচে সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং স্কোর। তাছাড়া টার্নিং সারফেস যেহেতু সব সময়ই উপমহাদেশীয় দলগুলোর জন্য আদর্শ তাই পাকিস্তানও চারজন স্পিনার নিয়ে খেলে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষেও স্পিনাররাই ছিলেন সফল। সুনীল নারিন এবং স্যামুয়েল বাদ্রি নিজেদের মধ্যে পাঁচটি উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। মাত্র ১৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবীয় ইনিংসকে মিডল অর্ডার কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়। এর মধ্যে ডুয়াইন ব্র্যাভোর সর্বোচ্চ ৩৫ ও সুনীল নারিনের আগ্রাসী ২৮ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেট হারিয়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিল। যদিও ১৭তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার জুলফিকার বাবরের বলে বোল্ড হবার আগে কিয়েরন পোলার্ডই মূলত ম্যাচটিকে জীবন ফিরিয়ে দেয়। তার ১০ বলে ২টি ওভার বাউন্ডারি ও ২টি বাউন্ডারির সহায়তায় করা ঝড়োগতির ২৩ রানে পাকিস্তান পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে। কিন্তু পরপর দুই বলে জুলফিকার দুই সেট ব্যাটসম্যান পোলার্ড ও ব্র্যাভোকে সাজঘরের পথ দেখালে পাক শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। শনিবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অভিষেক হয়েই তিন উইকেট দখলের পরে শেষ বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে জয় এনে দেয়ার পরে গতকালকের ম্যাচে ২ উইকেট ও অপরাজিত ১১ রানের সুবাদে সিরিজ সেরার পুরস্কারটা জুলফিকারের বাবরের দখলেই গেছে। ১৭ তম ওভারে ৯৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ছেড়ে দেয়নি। পরের ওভারেই আরেকটি নাটকে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি জীবন ফিরে পান। সাইদ আজমলের ওভারে বল সোজাসুজি আকাশে তুলে দিলেও বোলার ও উইকেটরক্ষক আকমল একসাথে দৌড়ে এসে একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে ক্যাচটি ফেলে দেন। তিন বল পরেই লং অফে একটি ক্যাচ শহীদ আফ্রিদির হাত ফসকে বাউন্ডারি হলে আবারো রক্ষা পান স্যামি। ম্যাচ শেষে পিচ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে হতাশ ক্যারিবীয় অধিনায়ক স্যামি বলেন, ‘যখন এশিয়ান দলগুলো আমাদের এখানে খেলতে আসে তখন এই ধরনের উইকেট তাদের উপহার দেয়া উচিত নয়। এটা আমাদের সহায়তা করার থেকে তাদের কাজে লাগে বেশি। আর দিনশেষে দেখা যায় ফলাফলও তাদের দিকেই গেছে।’ -বাসস/এএফপি