দিলশান-সাঙ্গাকারার ব্যাটে সিরিজ জিতলো শ্রীলঙ্কা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৭
তিলকরত্নে দিলশানের অপরাজিত সেঞ্চুরির পাশাপাশি কুমার সাঙ্গাকারার ৯১ রানের উপর ভর করে গত রবিবার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আট উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পাল্লেকেলেতে এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজও নিশ্চিত করে ফেললো স্বাগতিকরা। সাদা চোখে দেখলে এ ম্যাচে প্রোটিয়া বোলারদের বাজে পারফরম্যান্সই হয়তো বেশি করে চোখে লাগবে। কারণ, পাল্লেকেলের বোলিং সহায়ক উইকেটে এদিন রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়েই জিততে হয়েছে লঙ্কানদের। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধ আর পুরো সিরিজ বিশ্লেষণ করলে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দীনতাই পরিষ্কার হয়ে ওঠে। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা এবিডি ভিলিয়ার্সের দল ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই ওপেনার কুইন্টিন ডি ককের উইকেটটি হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে দলকে শক্ত একটা ভিত্তি এনে দেয় হাশিম আমলা-জে পি ডুমিনি জুটি। এই জুটিতে ভর করে তারা পৌঁছে যায় ১১৮ রানে। সেখান থেকে ২৩৮ অল আউট! আমলার ৭৭ এবং ডুমিনির ৯৭’র বাইরে টপ অর্ডারদের মধ্যে শুধু একজনই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পেরেছেন। পুরো সিরিজ জুড়েই ব্যাটসম্যানদের বাজে পারফরম্যান্সের সমালোচনা করা ভিলিয়ার্সকে তাই আরো একবার বলতে হলো সেই পুরনো কথাই, ‘জেপি (ডুমিনি) দারুণ খেলেছে। তবে কোন সন্দেহ নেই আমরা অন্তত ৩০ রান কম করেছি।’ তবে দিলশান-সাঙ্গাকারাকেও তাদের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে ভুল করলেন না প্রোটিয়া অধিনায়ক, ‘উইকেটে বল বেশ ঘুরছিল। দিলশান-সাঙ্গার প্রশংসা করতেই হবে।’ লঙ্কানদের পক্ষে অজন্তা মেন্ডিস চারটি এবং মালিঙ্গা তিনটি উইকেট লাভ করেন। সফরকারীরা যেখানে ব্যর্থ, লঙ্কানদের সাফল্য ছিল ঠিক সেই জায়গাতেই। দলীয় ৪৫ রানে মাহেলা জয়াবর্ধনে ফিরে যাওয়াটাই যেন শাপে বর হয়ে আসে তাদের জন্য। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাঙ্গাকারার সঙ্গে দিলশানের জুটিটা জমে ওঠে দারুণভাবে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে ১৮৪ রান যোগ করেন। সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরিটাকে যখন প্রাপ্যই মনে হচ্ছিল ঠিক তখনই শতক থেকে নয় রান দূরে মরনে মরকেলের বলে ফিরে যান তিনি। তবে বহুদিন বাদে ফর্মে ফেরা দিলশান অবশ্য ফিরেছেন দলকে জিতিয়েই। ১১৯ বলে শতক ছোঁয়ার পর তার উল্লাসটাও ছিল দেখার মতো। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১৬ রানে। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেটি আগামীকাল কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে।