প্রায় একই সময়ে নগরীর দুই প্রান্তে শেষ হল দুটি সভা। দুই জায়গাতেই আলোচ্য বিষয় ছিল প্রধানত একটা—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। একদিকে বিসিবি যখন এডহক কমিটির সভায় নির্বাচনের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে; তখনই ফোরাম নামে পরিচিত বাংলাদেশের জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘কঠোর আন্দোলনে’ যাওয়ার। এখনই ঠিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেনি ফোরাম। তবে অতিদ্রুত তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সমঝোতা না হলে সারা দেশে ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করার কথা কাল জানিয়ে দিলেন সংগঠনটির সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু, ‘যদি আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া না হয়, তাহলে বিসিবির অধীনে আমরা আর কোনো খেলায় অংশ নেব না। সারা দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’
ফোরামের মূলত আপত্তি ২০১২ সালের সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া গঠনতন্ত্রে এনএসসির আনা কয়েকটি সংশোধনী নিয়ে। বাবু নিজেই বললেন তাদের আপত্তিগুলোর কথা, ‘প্রথমত আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলো থেকে আসা পরিচালকদের একজনকে সহসভাপতি করতে হবে। দ্বিতীয়ত বিভাগীয় পরিচালকদের আলাদা আলাদা করে নির্বাচিত করার ব্যবস্থা চলবে না। আমরা ৭১ ভোটার একসঙ্গেই আমাদের পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত করতে চাই। আর সবচেয়ে বড় কথা হল, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে অবশ্যই পরিষদের সদস্যদের ভেতর থেকে; যাকে খুশি তাকে কাউন্সিলর বানিয়ে পাঠানো চলবে না।’ এই দাবিগুলো নিয়ে ফোরাম আগেও কথা বলেছে। এই দাবিতে তারা সংশোধনীর বিপক্ষে উচ্চ আদালতেও গিয়েছিলেন। বাবু বলছেন, এই দাবিগুলো মেনে নেয়ার ব্যাপারে তাদের আশ্বাসও দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আবারও তারা আরেক দফা পাপনের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা করতে চান, ‘আমরা মাঠের মানুষ। খেলা বন্ধ করতে চাই না। সমঝোতার চেষ্টা আমরা চালাবো।’
এই সমঝোতার বৈঠকের জন্য, আইনি কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা দেখার জন্য আর সমঝোতা না হলে আন্দোলন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটিও করেছে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ। পরিষদের মহাসচিব ও নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকুর নেতৃত্বে এই কমিটিতে আছেন ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আকসির, গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কিসলু এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর তাদের করণীয় সম্পর্কে বললেন, ‘এটুকু বলতে পারি, বিসিবি সভাপতি আমাদের অভিভাবক। কিন্তু তিনি জেলা ও বিভাগকে তুচ্ছ করে যে ধরনের কথা বলছেন, তা এই অভিভাবক হিসাবে বলা মানায় না। তার নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। তারপরও আমরা আলোচনার চেষ্টা করবো। যদি সমঝোতা না হয়, আমরা বিসিবির কোনো খেলায় সহযোগিতা করবো না।’ তবে এই সমঝোতার ব্যাপারে বিসিবি সভাপতির ওপর আর খুব বেশি ভরসা রাখতে পারছেন না বাবু। পাপনকে নিয়ে তার অভিযোগ, ‘উনি বিসিবি সভাপতি। নির্বাচনে ওনার নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি পরিষ্কার পক্ষ নিয়ে ফেলেছেন। কারা তার সাথে আছেন বা নেই; এসব বলছেন। এটা ঠিক না।’
তাই ফোরাম এখন আরও ওপর মহলে, মানে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চায়। বাবু জানালেন, তারা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছেন।
