আবারো ক্রিকেট বিশ্বে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো দুর্নীতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজকে ঘিরে আবারো উস্কে উঠেছে ফিক্সিং বিতর্ক। ব্রিটেনের ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল সিরিজকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করলে এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সবাই। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) এরই মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। এবার এই সিরিজটি নিয়ে সন্দেহের কথা জানাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছে তারা। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর বরাতে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
অন্যদিকে, সন্দেহের তীর যখন উঠছে পাকিস্তানের দিকে, তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পক্ষেও আসলে চুপ করে থাকা সম্ভব হল না। সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যাপারটা লজ্জাজনক হবে বলেই মন্তব্য করলেন তিনি, ‘যদি ঘটনাটি সত্যিই হয়ে থাকে; তবে তা খুবই অপমানজনক হবে।’
ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান দলের ফিক্সিংয়ের খবর জানতে পেরে বেশ চটেছেন সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নাজাম শেটি। তিনি বলেন, যদি ঘটনাটি সত্যিই হয়ে থাকে তবে তা খুবই অপমানজনক হবে। বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে আইসিসি। আমি এ ব্যাপারে বেশি কিছু বলতে পারবো না। তবে কিছুদিন আগে দলের ম্যানেজারের সাথে আমি কথা বলেছি। সে আমাকে জানিয়েছে, আকসু এখানে আছে। সংস্থাটি এই বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখছে।’
ডেইলি মেইলের গত রবিবারের সংখ্যায় প্রথম জানা যায় বিষয়টি। দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয় অনৈতিক কিছু হয়েছে, এমন সন্দেহের ভিত্তিতে সিরিজের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধান চালাবে আইসিসি। তারা জানায়, ‘সেন্ট লুসিয়ায় তৃতীয় ও পঞ্চম ওয়ানডে নিয়ে তদন্ত করেছে আকসু। তৃতীয় ওয়ানডেতে নিশ্চিত জয়টি ‘টাই’ করে পাকরা এবং পঞ্চম ওয়ানডেতে সহজ জয়কে কঠিন করে তুলে তারা। তাই ঐ ম্যাচ দুটি নিয়ে তদন্ত করেছে আকসু।’ পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে পাকিস্তান ৩-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি টাই হয়।
তবে ‘টাই’ হওয়া তৃতীয় ওয়ানডে নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। ঐ ম্যাচে পাক ক্রিকেটারদের ফিক্সিং করার গন্ধ পেয়েছে আকসু। শুধুমাত্র ঐ ম্যাচ নিয়েই নয়, শেষ ওয়ানডেতে জয়ের জন্য শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তাই ওয়ানডে সিরিজে ঐ দুটি ম্যাচ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আকসু।
স্পট ফিক্সিং এবং ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এবং বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর পর এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এ বিষয়ে পিসিবির অবস্থান ছিল অনেকটাই অস্পষ্ট। তবে ক্রিকইনফোর কথা মানলে বলতে হবে নতুন কোন ঝামেলায় না জড়াতে পিসিবি এবার বদ্ধপরিকর। কঠিন হাতেই পরিস্থিতি সামলাতে চায় তারা। পিসিবি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে সন্দেহের ব্যাপারটি এসেছে। পিসিবিও ব্যাপারটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই দেখছে। পিসিবি কখনোই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষ করেনি। তবে এ বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব আকসুর।’ তবে তারপরও বোর্ড আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘পিসিবি এই বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আমার ধারণা আইসিসি এ বিষয়ে শীঘ্রই গণমাধ্যমকে জানাবে। পিসিবি এই মুহূর্তে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।’
