এইচএসসি পরীক্ষা শেষ। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। প্রতিযোগিতা হবে অনেক বেশি। কেননা বর্তমান সময়ে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র খুব বেশি নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। মুখোমুখি হতে হবে ভর্তি পরীক্ষার মতো এক মহাযুদ্ধের; কিন্তু সামনে সময় খুবই কম। অতএব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিকে আরো গোছালো করতে বিগত বছরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থীরা পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন সানজিদা জিনিয়া, নাজমুল হক জেনিথ, আহমেদ নাঈম, মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ। লিখেছেন— বারেক কায়সার
নিজে নিজে চেষ্টা করাই ভালো
— মো: আল ইমরান
ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়
ক ইউনিট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ মুহূর্তগুলোই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। এই সামান্য সময় পারে জীবনের মোড় পাল্টে দিতে, পারে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে। পরীক্ষার হলে প্রথমে দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর খুব সতর্কতার সাথে পড়তে হবে। অনেক পরীক্ষার্থী তাড়াতাড়ি প্রশ্ন পড়তে গিয়ে প্রশ্নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে যায়। তাই তাদের এই বিষয়টি মনে রাখতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার কোন অংশে কত সময় ব্যয় করতে হবে তা আগেই নির্ধারণ করে ফেলতে হবে। যে প্রশ্নের উত্তরগুলো জানা আছে সেগুলো আগে উত্তর দিতে হবে। তারপর কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুল উত্তর দেয়ার জন্য নম্বর কেটে নেয়, সে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে উত্তর দেয়ার দরকার নেই। আর যেখানে এই সিস্টেম নেই সেখানে প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অনুমান করে উত্তর দেয়া যায়। এতে উত্তরটি সঠিক না হলেও ক্ষতির আশঙ্কা নেই। পরীক্ষার হলে অন্যের সাহায্য না নিয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করাই ভালো।
জোর দিতে হবে সাধারণ জ্ঞানে
— ইয়াছিন উদ্দীন শাকিল
ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম
ডি-১ ইউনিট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা প্রথমপত্রের গল্প ও কবিতা থেকে প্রশ্ন হয়। ইংরেজির বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ— এ ধরনের প্রশ্ন বিগত বছরগুলোয় এসেছে। সত্যি বলতে কি সাধারণ জ্ঞান অংশটা ভালো করলে সুযোগ পাওয়াটা সহজ হয়। এ জন্য নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া আর টিভির খবর দেখার বিকল্প নেই। পত্রিকা পড়তে গিয়ে নতুন কোনো তথ্য পেলে তা অবশ্যই নোট রাখবেন। তাহলে পরীক্ষার আগের দুই দিন ওখানে চোখ বোলাতে পারবেন। সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে মানচিত্রটা মনে গেঁথে নিতে পারেন। খেলাধুলা, আবিষ্কার, রাজনীতি, স্থাপনা, পুরস্কার, সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনা ইত্যাদি সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতে হবে। বিভিন্ন সাল-তারিখ মনে রাখতে হবে। পত্রিকা পড়া ছাড়াও বিসিএস গাইড বই থেকে সাধারণ জ্ঞানের অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়তে পারেন। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রশ্ন আসতে পারে। তাই তথ্যভাণ্ডার যত সমৃদ্ধ হবে, উত্তর করা তত সহজ হবে।
প্রশ্নের ধরন জানতে হবে
— শিহাব শাহরিয়ার
ভর্তি পরীক্ষায় পঞ্চম
এফ ইউনিট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সব বিষয় পড়তে হয় বলে অনেক কিছু মনে রাখা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। যদি একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পড়ার ব্যাপারটাকে গুছিয়ে আনা যায় তাহলে মনে রাখাটা অনেকটাই সহজ হবে। প্রশ্নের উত্তর মনে রাখার জন্য বিভিন্ন কৌশল সৃষ্টি করতে হবে নিজেকেই। এখন অবশ্যই বাজারে এ ধরনের কিছু বই পাওয়া যায়। চাইলে কিনে পড়ে দেখতে পারেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে যে ইউনিটে পরীক্ষা দেবেন তার প্রশ্নের ধরন জেনে নিবেন। পরীক্ষায় যে সকল বিষয়ের উপর প্রশ্ন আসে তার একটি রুটিন করে নিতে হবে। দিনের এক একটি অংশ এক একটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করে নিলে সুবিধা হয়। আবার যে বিষয়টিতে প্রস্তুতি অধিকতর হালকা বলে মনে হবে সে বিষয়টিতে বেশি সময় সিডিউল করাটাই উচিত হবে। পরীক্ষা পূর্ববর্তী সময়ে নিজেকে যাচাই করার উপযুক্ত উপায় হলো মডেল টেস্ট দেয়া। এতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। মডেল টেস্টগুলোর মান ও পরীক্ষা হলের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় এতে। এছাড়া পরীক্ষার হলে কিভাবে কত সময়ে উত্তর দিতে হবে তারও একটি ধারণা পাওয়া যায়।
পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে হবে
— মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট
ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম
ডি ইউনিট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
অনুশীলন মানুষকে যোগ্য করে গড়ে তোলে। এই সত্য কথাটি আরো বাস্তব দেখতে পাবেন যখন অনুশীলন করে নিজেকে যোগ্য করবেন ভর্তি পরীক্ষার জন্য। অহেতুক বিষয়গুলি না পড়ে প্রয়োজনীয় ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালভাবে আয়ত্ত করতে হবে। পরীক্ষা পর্যন্ত ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে মনোবল বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। পরীক্ষার ২/৩ দিন আগেই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরন জেনে নিতে হবে। অতীতে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো স্ট্যাডি করে যেসব বিষয় বারবার এসেছে, সেগুলোর প্রতি জোর দিতে হবে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয় সেই সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর জেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে আন্তরিকতার সাথে। নতুন কিছু পেলে সাথে সাথে নোট আকারে লিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
