নিজেকে একটু অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে ওরা। মায়ের হাতের ইফতারের সাথে যদিও তুলনা হয় না। তবুও এই দূরে এসে বন্ধুদের সাথে ইফতার করতে হয়। এ যেন অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। মনে হয় যেন কাছের মানুষের সাথেই ইফতার করছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ইফতার নিয়ে লিখেছেন— নাহিদুর রহমান হিমেল, ইমাদুল হক প্রিন্স,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। পূর্বের ন্যায় এখানে আড্ডা থাকলেও এ মাসে সাথে থাকে রোজাদারদের রোজা ভাঙ্গার উপকরণ। দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতেই পুরো জায়গাটা পরিণত হয় শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ছুটে চলে আসেন শিক্ষার্থীরা। কেউবা আসেন জেলা অথবা সামাজিক সংগঠনের মিটিং করতে, কেউবা আসেন ইফতারী করতে। চলে কিছুক্ষণ আড্ডা, গান, গল্প আর মিটিং। এরপরই শুরু হয়ে যায় হরেক রকম ইফতার সামগ্রী দিয়ে রোজা ভাঙ্গার প্রস্তুতি। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই ইফতার করতে আজানের অপেক্ষায় থাকেন রোজাদার শিক্ষার্থীরা। সামনে থাকে ইফতার উপকরণ ছোলা, পিঁয়াজু, মুড়ি, আলু-বেগুনের চপ, জিলাপি, বুরুন্দাসহ বিভিন্ন রকম ফল সামগ্রী ও সরবত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিবারের মতো রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা থাকায় এবারও ক্যাম্পাসেই থাকতে হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহরী-ইফতার মানেই একটা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন কিছু পাওয়া। সাথে নতুন কিছু কষ্টকে সঙ্গী করা। শেষ রাতে সবাইকে নিয়ে এক সাথে বসে সাহরী খাওয়ার মাঝে থাকে যেন অন্য রকম রোমাঞ্চ। সারা দিন রোজা থাকার পরে সন্ধ্যা বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বা মেসে সকলের সাথে কিংবা ক্যাম্পাসে সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে সহপাঠী বা বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করলে সকল ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়। তবে যারা এবারই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রথম রমজান কাটাচ্ছে মেসে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তাদের কাছে এটা অনেকটা কষ্টেরও বটে। অনেকে একে উপভোগও করে থাকেন।
স্টেট ইউনিভার্সিটি
সম্প্রতি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডিস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ও স্টেট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের পরামর্শক প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যামুলেট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মকর্তা ইব্রাহিম রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম পাঠান।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
আর মাত্র কয়েক মিনিট। শুরু হয় কাউন্ট ডাউন। এ এক মজার অনুভূতি। সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতার সামনে রেখেই যেন মুয়াজ্জিনের আজানের অপেক্ষা। সকাল থেকে ক্লাস, পরীক্ষা তারপর আড্ডা তাও শেষ হয় না সময়। ক্যাম্পাসের বৈশাখী চত্বর, কাঁঠাল চত্বর, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে শুধু আড্ডাই চলে এ যেন ক্ষুধাকে ভুলে থাকার প্রতিযোগিতা। তারপরও ইফতারির আগে যেন মনে হয় আর পারা যাচ্ছে না। কত দূর-দূরান্তের বন্ধুরা এই ক্যাম্পাসে সবার যেন একই অনুভূতি। বন্ধুত্বের বন্ধনেই করছে ইফতারির আয়োজনকে আরো বেশি স্মৃতিময়। বাসার মজাদার ইফতারির কথা যেন বন্ধুরা ভুলে যায় ক্যাম্পাসের বন্ধুত্বের বন্ধনের কাছে। সকল ধর্মের, সকল মতের মানুষের মিলনমেলা বসে ইফতারিকে কেন্দ্র করে।
পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়
পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ৪র্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নীলিমা মন্ডল, শোয়েব, হুমায়ুন, অপু, মুনিয়া, রোহিনা এবং নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বন্ধুত্ব আর আড্ডার জন্য এর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের অবদান অনস্বীকার্য । এর প্রভাব ভাল টের পাওয়া যায় পবিত্র রোজার মাস এলে। ইফতারকে কেন্দ্র করে গোটা ক্যাম্পাস পরিণত হয় বন্ধুত্বের মিলন মেলায়। ক্যাম্পাসের এমন জায়গা থাকে না যেখানে জমে না ইফতার পার্টি। এ সময় পবিপ্রবিতে এলে অবাক হবেন যে কেউ। পুরো ক্যাম্পাসটি যেন ইফতারের জন্য উন্মুক্ত। কোথাও নেই ভিড়, ইফতার সাজানোর ব্যস্ততার উত্সবের আমেজ।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সমপ্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রাক্তন গ্রাজুয়েটদের পুনর্মিলনী ও ইফতার মাহফিল - ২০১৩ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. লুত্ফর রহমান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান মনজুরুল আলম জুয়েল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম মিজানুর রহমান, পরিচালক (স্টাডিজ) প্রফেসর ড. এম জাকির হোসেন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব উল হক মজুমদার, বাণিজ্য ও অর্থনীতি অনুষদের ডীন প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. মো. ফখরে হোসেন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ও ডিআইইউ এ্যালাম্নাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মমিনুল হক মজুমদার।
