রাজারহাটে তিস্তার ভাঙ্গনে ২৫টি পরিবার গৃহহীন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২০:৫২
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি, এতিমখানা, ফসলি জমি, গাছপালা, সুপারি বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউপির চতুরা, রামহরি, তৈয়বখাঁ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির গতিয়াশাম, বুড়িরহাট, নাজিমখান ইউপির সোমনারায়ণ এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তৈয়বখাঁ গ্রামের গৃহহারা সুলতান (৪৫) জানান, হামরা চাইর ভাই, বাবার এগার শতক বসতবাড়ির জমি রাখি গেইছে। চাইর ভাই ওই বসতভিটায় বসবাস করছি। এখন সেই বসতভিটা তিস্তার খরস্রোতে ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে বাঁধের রাস্তায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কোনরকমে বসবাস করছে। অনেক স্থানে বাঁধ, রাস্তা ও ডাংরারহাট বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে এ ইউনিয়ন ৩টির বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনকবলিত এলাকার মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। শত শত পরিবার ভাঙ্গনের কবল থেকে রেহাই পেতে আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁধ, রাস্তা ও অন্যের জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে। কিন্তু বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা তাদের ভাগ্যে জোটে না। চতুরা গ্রামের বসতহারা হাজরা (৪৫) জানান, বাবা সামনে ঈদ কি করমু, বসতভিটাই নাই, বাচ্চাদের কি খাওয়ামু তা নিয়া খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহেরের সঙ্গে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।