বি শ্ব কা প - ২০১৫

অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গী বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:০১
গ্রুপ ‘এ’ নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং বাছাইপর্বের ২য় ও ৩য় দল গ্রুপ ‘বি’ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং বাছাইপর্বের ১ম দল (আয়ারল্যান্ড) ও ৪র্থ দল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পরবর্তী আসরে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী হচ্ছে দুই স্বাগতিক দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। এই ‘এ’ গ্রুপে আরো আছে এশিয়ান পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা এবং শক্তিশালী ইংল্যান্ড; গ্রুপের বাকী দুই দল এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। আর ‘বি’ গ্রুপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট দুই দেশের ১৪টি ভেন্যুতে ৪৯টি ম্যাচ পাড়ি দিয়ে ২৯ মার্চ শেষ হবে। মেলবোর্নে গতকাল এক জাঁকজমকপূর্ণ ড্র অনুষ্ঠানে এই সূচী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি উন্মোচন করা হয়েছে বিশ্বকাপের ট্রফিও। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাটটাই এখন এমন হয়ে গেছে এখানে কোন গ্রুপকেই সহজ বা কঠিন বলার উপায় নেই। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল দুই ভাগ হয়ে খেলে দুই গ্রুপে। তাদের সঙ্গী হয় বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে। দুই গ্রুপের বাকি চারটি শূন্যস্থান পূরণ করবে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বৈতরণী পেরোনো চারটি দল। তাদের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে এরই মধ্যে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়ে গেছে আয়ারল্যান্ড। কঠিন-সহজের হিসেব না কষলেও দেশের বাইরে স্বাগতিক কোন দেশের বিরুদ্ধে খেলাটা যে সবসময়ই বড় একটা চ্যালেঞ্জ, সেটা মানতেই হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে এবার সেই চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করতে হবে; বাংলাদেশকে দুটি স্বাগতিক দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে হবে। তবে প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত সহজ কোন প্রতিপক্ষকেই পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্ব পার হয়ে আশা এখনও নাম না জানা একটি দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী শহর ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় দিবারাত্রির এই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ হবে দুই নম্বর কোয়ালিফায়ার দল। এরপর তার যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, তৃতীয় কোয়ালিফায়ার এবং ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। সবগুলো ম্যাচই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অংশ নিতে মুশফিকদের উড়ে যেতে হবে নিউজিল্যান্ডে। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে ১৪ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড খেলবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। একই দিন মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (এমসিজি) অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বি গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এর পরদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। সেই ১৯৯২ সালে ইমরান খানের পাকিস্তান এমসিজির ফাইনালে জিতেছিল তাদের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ শিরোপা। প্রায় ২৩ বছর পর ২০১৫ সালে আবারো বিশ্বকাপ ফাইনাল ভেন্যুর মর্যাদা পেতে যাচ্ছে এমসিটি। প্রায় এক লাখ দর্শক ধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ২৯ মার্চ শিরোপার জন্য লড়বে সেরা দুটি দল। ফাইনালের পাশাপাশি একটি কোয়ার্টার ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে সেখানে। শেষ আটের বাকি তিনটি ম্যাচের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে অ্যাডিলেড, ওয়েলিংটন এবং সিডনিকে। ’৯২ বিশ্বকাপের মতোই সিডনি এবং অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল। গতকাল মঙ্গলবারের ড্র অনুষ্ঠানে আইসিসি কর্তাব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন সাবেক তারাকাও। সনাথ জয়াসুরিয়া, কপিল দেবদের সঙ্গে ছিলেন স্বাগতিক দেশের ইয়ান চ্যাপেল, ডেনিস লিলি, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল হাসিরাও। অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে আইসিসির প্রধান নির্বাহী এবং অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট সামলানো ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘পঞ্চাশ ওভার ম্যাচের সবচেয়ে বড় টুনামেন্ট আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি তার চল্লিশ বছর পূর্ণ করবে।’ আইসিসির অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোর মতোই এটিও দারুণ সফল কিছুই হবে বলে মনে করেন রিচার্ডসন। পাশাপাশি পঞ্চাশ ওভার খেলার জনপ্রিয়তা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি, ‘২৩ বছরের ব্যবধানে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফিরছে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আরো একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজন ৫০ ওভার ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।’