শোবিজ জগতে তার পথচলা দীর্ঘ সময় ধরে। শুধু মডেলিং ও অভিনয় নয়, উপস্থাপনাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বলছি, সবার প্রিয় ফারাহ রুমার কথা। বর্তমানে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই মডেল ও অভিনেত্রী। এই আলোচিত অভিনয়শিল্পী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
সব সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিই। কারণ সময়ই মানুষকে বলে দেয়, পথিক পথ ওদিকে নয়, পথ এদিকে। আমি জীবনের একটি মুহূর্তকেও অযথা নষ্ট করতে চাই না, আমি বরাবরই সময়কে যথার্থভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করি।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আসলেই দম ফেলার একটুও সময় নেই। সব সময়ের মতো অভিনয় অথবা উপস্থাপনার পাশাপাশি এবার প্রযোজনাও করেছি। তাই প্রেসারটা আরেকটু বেশি। সেই সঙ্গে সব সময়ের মতো ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্মাতার নাটক, টেলিফিল্মেই অভিনয় করছি। আশা করছি দর্শকের কাছে তাদের নির্মাণে আমার উপস্থিতি বেশ ভালোই লাগবে। কাজ নিয়ে কখনও আমার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখাতে হবে। এই ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
আমি বরাবরই এক ঘণ্টার নাটকে বেশি কাজ করেছি। ধারাবাহিকের ব্যাপারে আমি বরাবরই নিজের ভালো লাগাটাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর একক নাটকে কাজ বেশি করার কারণ হচ্ছে—নির্দিষ্ট
সময়ের মধ্যে নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে। তাই আমার মতে, অনেক অভিনয়শিল্পীরই এক ঘণ্টার
নাটক বেশি পছন্দের। আর এক ঘণ্টার নাটকে চরিত্রের মাঝে ভিন্নতা থাকে, এতে অভিনয়ের
দক্ষতা অর্জন করাও সহজ হয়।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত—
দেখুন, আমাদের মিডিয়া বরাবরই বাইরের দেশের মিডিয়াকে বেশি ফলো করে। আইডিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই এখন কপিপেস্ট চলেছে। কিন্তু নাটকে বিজ্ঞাপনের বেলায় আমরা বাইরের দেশগুলোকে ফলো করি না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। মাঝে মাঝে নাটক দেখতে বসলে ভুলে যাই নাটক দেখছি না
বিজ্ঞাপন দেখার জন্য টিভির সামনে বসেছি। যেহেতু বিজ্ঞাপনী সংস্থার
উপর আমাদের অনেকাংশে নির্ভর
করতে হয়, তাই কর্তৃপক্ষই পারে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
একজন নাগরিক হিসেবে আমার যতটুকু আনন্দ আছে, ঠিক ততটুকুই বেদনা আছে। যেমন, আমাদের দেশে মানুষ অনেক বেশি সরল এবং আন্তরিক, পরস্পরের প্রতি আমাদের অনেক বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব রয়েছে—বাইরের দেশে এমনটি দেখা যায় না, সেখানে মানুষ অনেক বেশি যান্ত্রিক। এটুকু ভেবে আমি অনেক শান্তি পাই। আর বেদনা হচ্ছে দেশের সার্বিক নাজুক অবস্থা। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না।
