যমুনার ভাঙ্গনে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:১৩
যমুনা নদীর তীরবর্তী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে এসব ইউনিয়নের কয়েক শ বিঘা ফসলি জমি ও দুই শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসাও হুমকির মধ্যে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে এসব পরিবারের লোকজন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, এ বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতপুরের বাঘুটিয়ার, বাচামারা, চরকাটারী, খলসী ও জিয়নপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এর মধ্যে বাঘুটিয়ার ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া ও রাহাদপুর; বাচামারার চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া ও উত্তরখন্ড-বাচামারা; চরকাটারীর ওহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকের আলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া ও মণ্ডলপাড়া এবং জিয়নপুরের বরটিয়া, আমতলী ও বৈন্যা অত্যধিক ভাঙনপ্রবণ এলাকা। সমপ্রতি ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি বসতভিটা নদীগর্ভে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এসব পরিবারের লোকজন তাঁদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। বসতভিটা হারিয়ে বেশকিছু পরিবার খোলা আকাশের নিচে কোনো রকমে আশ্রয় নিয়েছে। জোতকাশি গ্রামের বৃদ্ধ আকমল বিশ্বাস বলেন, গত ১৫ বছরে তাঁর ১৮ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। শেষ সম্বল ৬৩ শতক জমির বসতভিটাও এক সপ্তাহ আগে বিলীন হয়ে গেছে। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি অন্যের জমির ওপর কোনো রকমে ঘর উঠিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কাচারীপাড়া গ্রামের কাজীমুদ্দিন শেখ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘ভোট আইলে চিয়ারম্যান-মেম্বারগো দেহা যায়। ভোট অইয়্যা গ্যালে আর কারও দেহা নাই। আমরা বাঁইচা আছি, না নদীতে ভাসাইয়া নিয়া গ্যাছে, কেউ খোঁজ ন্যায় না।’ বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসেন বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর শত শত একর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ৩০ বছরে এই ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছয়টিই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অথচ ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখা কর্মকর্তা গোলাম ফারোয়ার বলেন, নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য ‘যমুনা-মেঘনা রিভার ইরোশন মিটিগেশন’ নামে একটি প্রকল্প পাউবো হাতে নিয়েছে। একটি বৈদেশিক সংস্থা এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হবে। এ বছর বরাদ্দের অভাবে দৌলতপুরে ভাঙন রক্ষায় স্থায়ী ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ করিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নাম ও ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলবাসীর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।