ভাষা আন্দোলনের অমর ব্যক্তিত্ব শহীদ রফিক

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:১৩
শুধু এদেশে নয়, বিশ্ব পরিসরে ভাষা আন্দোলন এক অবিস্মরণীয় অন্য ঘটনা। উপমহাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই মানিকগঞ্জের সন্তানেরা অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেছেন। ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে যে সন্তান সমগ্র জাতিকে ঋনী করেছেন তার নাম রফিক উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পারিল বলধারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ মায়ের নাম রাফিজা খাতুন। তিনি কলিকাতা মিত্র ইনস্টিটিউশনে কিছুদিন লেখাপড়া করার পর তার বাবার সাথে পারিল এসে বিপ্লবী নেতা ও নেত্রী যথাক্রমে অনিল চন্দ্র ও লীলাবতী রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ্ই স্কুল থেকেই তিনি ১৯৪৯ সালে মেট্রিক পাস করেন। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব কমপক্ষে ৫ মাইল। এই দীর্ঘপথ হেটে তিনি নিয়মিত স্কুল আসতেন। তিনি হাইস্কুলে ছাত্রদের লিডার ছিলেন। সাহিত্যে ছড়া রচনা, সেলাই সুঁচি শিল্পে ও সংগঠন তৈরীতে তিনি বেশ দক্ষ ছিলেন। জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময়ে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জাড়িয়ে পড়েন। তারপর আসে ৫২’র ভাষা আন্দোলন। ২১ ফেব্রুয়ারি পাক সরকার কর্তৃক ভাষা জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মিছিল করার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রফিকই প্রথম গুলিবিদ্ধ হন। তাই বলা যায় তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। ১৯৫৭ সাল ‘লালশার্ট’ নাম নিয়ে দৈনিক আজাদের মুকুলের মাহফিলে প্রখ্যাত লেখক শামসুজ্জামান খান এর একটি গল্প ছাপা হয়।