পদ্মার চরে অন্ধকারে আলোর ঝিলিক

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:১৪
আধুনিক সুবিধা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের পদ্মার চরে দেখা দিয়েছে আলোর ঝিলিক । চরাঞ্চলের সব অন্ধকার দূর করে আলো এনে দিয়েছে সৌর বিদ্যুত্। সৌর বিদ্যুত্ বদলে দিয়েছে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনের ছন্দ। বহুকাল আগেই ভাঙ্গাগড়ার খেলায় পদ্মার বুকে জেগে উঠেছে বিশাল চর। হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর, সুতালরি, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন তিনটি পদ্মা নদী দ্বারা বেষ্টিত। উপজেলা সদর হতে প্রতিটি ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার। তাই এই অঞ্চলের চরবাসীরা সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। চরবাসীর কাছে বিদ্যুতের আলো ছিল আকাশ কুসুম কল্পনার। কিন্তু সেই কল্পনা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সারা দেশের মানুষ যখন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ তখন ওই এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে জ্বালিয়ে যাচ্ছে আলো । সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে তারা নগর জীবনের অনেক কিছুই ব্যবহার করে যাচ্ছে। সেই বিদ্যুতের আলোয় ছাত্র-ছাত্রীরা রাতের বেলাতেও পড়াশোনা করছে। এসব চরাঞ্চলের মানুষগুলোর ভাগ্য উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে কয়েকটি এনজিও। ৪/৫ বছর আগে গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, আশা, সৃজনী, টিএমএমএস নামের বেশকিছু এনজিও ওই এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম হাতে নেয়। চরাঞ্চলের ফরিয়ারচর, হালুয়াঘাটা, পাটগ্রাম, ভগবান চর, মাথাঘাট, কাজীকান্দা, বসন্তপুর, শিকারীপাড়া, সুতালরী, গঙ্গাদরদী প্রমুখ চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পৌঁছে গেছে সৌর বিদ্যুত্ । ফরিয়ারচরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আলাল উদ্দিন জানান, আমাদের চরাঞ্চলে বিদ্যুত্ পাওয়াটা স্বপ্নের মত ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছে সৌর বিদ্যুত্। সৌর বিদ্যুতের ফলে এখন আমরা এখানে টিভি ও ভিসিডি দেখতে পাচ্ছি। দেশ-বিদেশের খবর জানতে পারছি। ছেলেমেয়েরা রাত অবধি পড়াশোনা করতে পারছে। বসন্তপুর গ্রামের আজাহার মেম্বার জানান, সন্ধ্যার পর ভূতুড়ে গ্রামগুলো এখন আলোর গ্রামে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক বাড়িতে সৌর বিদ্যুত্ থাকায় চোর-ডাকাতের ভয়ও অনেকটা কমে এসেছে। সৌর বিদ্যুতে আমরা মোবাইলও চার্জ দিতে পারছি।