“যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই পাইলেও পাইতে পারো মানিক ও রতন” কবির এই কবিতাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ও গোবিন্দল ইউনিয়নের শতশত পরিবার।এই সোনা তৈরিকে কেন্দ্র করে চারিগ্রাম বাজারে সাপ্তাহিক সোনার হাটও বসে থাকে বলে জানা গেছে।
দাদার আমল থেকে সোনা তৈরির কাজে নিয়োজিত দাশারহাটি গ্রামের বদরউদ্দিন (৫২) জানান, চারিগ্রাম ও গোবিন্দল গ্রামের ৩ হাজারের বেশি লোক এই ছাই থেকে সোনা তৈরির কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই কাজ করেই এখানকার বেশিরভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
স্বর্ণের দোকানের পরিত্যক্ত ছাই কিনে সেগুলোকে পুড়ানো হয়। তারপর সেই ছাই পুড়ে একপ্রকার ধুলায় রূপান্তরিত হয়। সেই মিহিন ধুলার সাথে সোহাগা, ব্যাটারির শিশা ও পুনট দিয়ে ছোট ছোট পিন্ডি (দলা) তৈরি করা হয়। তারপর রোদে শুকানো পিন্ডি আগুনে গলিয়ে পিচ করা হয়। সেই পিচ ঢেকিতে পার দিয়ে গুঁড়ো করা হয়। তারপর মাটিতে গর্ত করে চুন ও ধানের তুষ দিয়ে পুড়িয়ে শিশা বের করা হয়। তারপর ছাকনি দিয়ে ছেকে পানিতে ধুয়ে শিশা আলাদা করা হয়। একটি পাত্রের মধ্যে নাইট্রিক এসিড দিয়ে শিশা আলাদা করে সোনা বের করা হয়।
