উনবিংশ শতকের প্রথমার্ধ্যে মানিকগঞ্জ জেলায় নীলচাষের প্রচলন শুরু হয়। প্রথম নীলকুঠি স্থাপিত হয় জাফরগঞ্জ ও ঘিওরে এবং নীলচাষের আওতায় জমি আনা হয়। কিন্তু জাফরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ন তীরভূমি নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনের মুখে বিলুপ্ত হলে তিল্লীতে পরবর্তী নীলকুঠি স্থাপিত হয়। এর কিছুকাল পরে সম্ভবত উনিশ শতকের তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে পোয়াইল, কিল্লা, বায়রা, জামালপুর, সিংগাইর নীলটেক, ওয়াইজনগর, কাঞ্চনপুর, কুঠিবয়ড়া, কুঠিহাটা, নীলগ্রাম, রাজনগর, ধানকৌড়া, কাল্লা, হাজীনগর, ঝিটকা প্রভৃতি এলাকায় ছোট বড় নীল উত্পাদনের কেন্দ্র স্থাপিত হয়। তিল্লী এবং ঘিওরের কুঠিবয়ড়ায় নীললকুঠির ধ্বংসস্তুপ এখনও লক্ষ্য করা যায় কিন্তু অপরাপর এলাকায় নীলকুঠির কোন নিদর্শন নেই আছে শুধু বিভিন্ন জনশ্রুুতি ও কিংবদন্তী। সাটুরিয়ার তিল্লী বাজারের পশ্চিমে কুঠিপাড়া কালের নীরব স্বাক্ষী হিসেবে ভুগর্ভে বসে যাওয়া অবস্থায় একটি নীল কারখানার অংশ বিশেষ বিধ্বস্ত এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে জানাগেছে নীলকারখানার উত্তরপাশে যে অট্টালিকাটি দেখা যায় তা বর্তমান শতাব্দীর গোড়াতে নির্মিত এবং তা আশপাশেই কোথাও ছিল। ফ্যাক্টরীরর মূল অংশ ভূগর্ভে দেবে গেছে। প্রকোষ্ঠ এখনও দৃষ্টিগোচর হয় এবং প্রকোষ্ঠ প্রাচীরের দেড় ফুটের মত মাটির উপর মাথা উঠিয়ে আছে। তিল্লীর প্রাচীনতম নীলকুঠি ও কারখানা ধলেশ্বরী নদীগর্ভে বিলীন। বহুকালব্যাপি এ অঞ্চলে সৃষ্টি ধ্বংসের নিগুঢ় লীলা খেলায় মত্ত ছিল প্রমত্তা ধলেশ্বরী। ঘিওর উপজেলার কুঠিবয়রায় কিছুকাল পূর্বে কৃষকগণ জমি চাষ করার সময় ভূগর্ভে ধ্বসে যাওয়া প্রাচীন ধ্বংসপ্রাপ্ত দালান কোঠার সন্ধান পায়। লাঙ্গলের ঈর্ষে বেজে ক্রমাগত পোড়ামাটির ইট বের হতে থাকলে চাষীগণ যুগপদ বিস্মিত ও কৌতুহলি হয়ে উঠে। তারা কোদাল দিয়ে কিছু এলাকার মাটি পরিস্কার করলে বিধ্বস্ত দালান কোঠার কাঠামো জেগে উঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জনতা ভীর জমালো কুঠি বয়রার সে প্রান্তরে। মাটি খুরে একটি বড় প্রকোষ্ঠ সংলগ্ন একটি বড় সুড়ঙ্গ পাওয়া গেল। সুড়ঙ্গটি নদীর দিকে নির্মিত। মহাদেবপুরের জনৈক কমলেশ মুখাজির্্ সাহস করে উক্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন সুড়ঙ্গ পথে প্রায় আধা মাইল পর্যন্ত গিয়েছিলেন। শুরু হলো জল্পনা কল্পনা। কারো মতে তা নীল কুঠিয়ালদের পরিত্যাক্ত নীলকুঠি ও কারখানা।
