মানিকগঞ্জে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদার বাড়ি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জমিদারের উনিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বছর জমিদারি করে গেছেন। এ সময়ে তাদের রেখে যাওয়া বহু পুরার্কীতিসমৃদ্ধি করেছে সাটুরিয়াকে।
বালিয়াটি পশ্চিমবাড়ির জমিদার ছিলেন, নিত্যনন্দ রায় চৌধুরীর দুই ছেলে বৃন্দাবন চন্দ্র রায় চৌধুরী এবং জগন্নাথ রায় চৌধুরী। এই দুই জমিদারের সময় বালিয়াটি নাম ছড়িয়ে পড়ে। তারা উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে উভয় পাশে সুন্দর কষ্টিপাথরের রাধা ও ললিত সাথী মূর্তি সম্বলিত কৃষ্ণ মূর্তি স্থাপন করেন। এ বিগ্রহের নাম রাধা বল্লভ। পরবর্তীকালে এই বংশের এক বধূ কৃষ্ণ কামিনী রায় চৌধুরানী রাধা বল্লভ বিগ্রহের জন্য সে সময় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে কারুকার্যমণিত্মত রৌপ্য সিংহাসন তৈরি করেন। আজও বালিয়াটির হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা দুবেলা রাধা বল্লভ বিগ্রহের পূজো করেন। জগন্নাথ রায় চৌধুরীর ছেলেরা কানাইলাল,কিশোরীলাল,যশোদালাল ও হীরালাল রায় চৌধুরী তাদের বাবার নামে ঢাকার খ্যাতনামা জগন্নাথ হল প্রতিষ্ঠিতা করেছেন। কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার নামে ঢাকার সদরঘাটে কিশোরীলাল জুবেলি স্কুল(কে এল জুবেলি স্কুল) প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ১৯২০ সালে বালিয়াটি এলোপ্যাথিক দাতব্য চিকিত্সা প্রতিষ্ঠা করেন।
