প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের কারণে আজ ধ্বংসের মুখে মানিকগঞ্জের ২শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জের মত্তের মঠ। বাংলাদেশের একটি অন্যতম ঐতিহ্যময় জেলা মানিকগঞ্জ। এই জেলায় জন্ম হয়েছে অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তির । তাঁরা সকলেই যার যার অবস্থানে বিশ্বখ্যাত। মানিকগঞ্জে রয়েছে লোক সাহিত্যের মহামূল্যবান সম্পদ। আর রয়েছে ঐতিহ্যের অপরূপ সমারোহ। তার একটি মানিকগঞ্জের “মত্তের মঠ”।
প্রায় দুই শত পঞ্চাশ বছর পূর্বের কথা, তত্কালীন সময়ে ‘পটল’ গ্রামে হেমসেন নামে একজন অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। কথিত আছে এই এলাকার কেউ জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটতে পারতো না তার পরগনায়। অত্যাচারী জমিদার হলেও পিতৃভক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ আজ থেকে প্রায় দুইশত পনের বছর পূর্বে জমিদার হেমসেন তার পিতার শেষকৃত্যস্থলে এই মঠটি নির্মাণ করেন।
জানা যায়, মঠটি নির্মাণ করতে সুদূর ইরাক থেকে কারিগর (মিস্ত্রি) এনে নিটল দীঘির পাড়ে প্রায় দুইশত ফুট উঁচু আর পনের শতাংশ জমির উপর অপরূপ মঠটি নির্মাণ করা হয়। সুনিপুণ কারুকার্য আর সুউচ্চ মঠ তত্কালীন অবিভক্ত পূর্ব বাংলার বিশাল স্থাপনা নিদর্শন হিসেবে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। জমিদার হেমসেন এর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ছেলে (নাম জানা যায়নি) থাকলেও উদাসীনতা এবং পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্যতা নষ্ট হওয়ার কারণে তখন থেকেই এই ঐতিহ্যটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ভাটা পড়ে। বাংলা ১৩২৬ সালে আশ্বিন মাসের কোনো এক ঝড়ের বিকেলে মঠটির উপরের ০৫টি কলসিসহ উপরের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে নিটল দীঘির মধ্যে পড়ে যায়। লোকমুখে শোনা যায়, ভেঙে পড়া ০৫ টি কলসির মধ্যে ০৩টি কলসি সোনার তৈরি ছিল। যা হেমসেন তার বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের স্থলে রেখেছিল। পরবর্তীতে মঠ নির্মাণকালে মঠের উপরে এই তিনটি কলসসহ মোট পাঁচটি কলস স্থান পায়।
অবিভক্ত বাংলার দর্শনার্থীদের প্রতিনিয়ত আনা-গোনা থাকলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আগমন লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭২ সালের দিকেও চীনের একদল পর্যটক মঠটি দেখতে এসে এর নির্মাণ শৈলী নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে।
