মুক্তিযুদ্ধে গোলাইডাঙ্গা যুদ্ধে ৮১ পাক সেনা নিহত হয়

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:২০
৩৬টি রাইফেল নিয়ে মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ২৫ মার্চ। ২৫ মার্চ রাতেই মানিকগঞ্জের যুক্তযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য ক্যাপ্টেন (অব:) আব্দুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করা হয়। এই বিপ্লবী পরিষদে সদস্য ছিলেন খন্দকার মাজহারুল হক চান মিয়া, মোসলেম উদ্দিন খান হাবু মিয়া, সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী ও মফিজুল ইসলাম খান কামাল মিয়া। পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জের ট্রেজারীতে রক্ষিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ বের করে নিয়ে ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৭ মার্চ ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর আলুর গুদামের পেছনে বিপ্লবী পরিষদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ শপথ নেন যে, তারা সবাই স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেবে এবং ক্যাপ্টেন হালিমের নেতৃত্ব মেনে চলবেন। এদিন থেকেই আলুর গুদাম মানিকগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় এবং যথাযরীতি সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এপ্রিল মাসের ১ম সপ্তাহে পাক বাহিনী মানিকগঞ্জ আক্রমন করলে বিপ্লবী পরিষদ তা প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং হরিরামপুরের কৌড়িতে স্থায়ী ঘাটি গড়ে তোলে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে। প্রথম সপ্তাহের শেষ পর্যায়ে পাক বাহিনী মানিকগঞ্জ শহরে প্রবেশের পূর্বে ৫/৭টি হেলিকপ্টারের সাহায্যে ঢাকা-আরিচা সড়ক বানিয়াজুড়ি নামক স্থানে বিপুল সংখ্যক সৈন্য নামাতে শুরু করে। এর প্রায় দু ঘন্টার মধ্যে ঢাকা-আরিচা সড়ক শতশত সাঁজোয়া গাড়িতে পূর্ণ হয়ে যায়। পাক সৈন্যরা মানিকগঞ্জ প্রবেশ না করে উত্তর বঙ্গ দখলের জন্য সরাসরি আরিচার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরিচা দখল করে নেয় এবং বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে নিরীহ জনগণকে হত্যা করে্। এরই মধ্যে তারা মানিকগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে এবং মানিকগঞ্জ দখল করে নেয়। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সময় পাকবাহিনী প্রতিরোধের কথা থাকলেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার করে বিপ্লবী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং যুব ও ছাত্র সমাজ কৌড়ি গ্রামে উপস্থিত হন। আগষ্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন দলে বিভক্তি হয়ে মানিকগঞ্জের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্যাম্প স্থাপন করে। এরূপ একটি উল্লেখযোগ্য ক্যাম্প ছিল সিংগাইরের গোলাইডাঙ্গা স্থলে। গোলাইডাঙ্গাতেই মানিকগঞ্জের সর্ববৃহত্ ও সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানাযায়। মুক্তিযোদ্ধারা যখন সকালের নাস্তা খাচ্ছিলেন এমন সময় খবর আসে পাক সেনারা ১০/১২টি নৌকা করে ৩ শতাধিক সৈন্যসহ গোলাইডাঙ্গা ক্যাম্প দখল করতে অগ্রসর হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্র মুক্তিযোদ্ধারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে খালের মোড়ে অপরদল খালের অপর প্রান্তে অবস্থান নেয়। ইতিমধ্যে পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের আওতায় যখন আসে তখন তোবারক হোসেন লুডুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র আক্রমণ চালায়।