বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ১৩ কোটি টাকা সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আনতে সহযোগিতা করায় ‘টেন পার্সেন্ট’ দিতে হচ্ছে মধ্যস্থতাকারীকে। এই টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ টাকা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে টাকা নিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আহমেদ খান। এ টাকা দেয়ার ব্যাপারে ফেরদৌসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ তাকে সম্মানী হিসেবে এ টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন থাকলেও দুদক এখন পর্যন্ত এ টাকা দেয়নি বলে দাবি করেছেন দুদক চেয়ারম্যান। তবে অপর একটি সূত্র দাবি করছে, গত বৃহস্পতিবার ‘অ্যাকাউন্ট পে চেক’-এর মাধ্যমে এ টাকা ফেরদৌসের কাছে দুদক পাঠিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান কোকোর এই পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত আনার কথা জানান।
টেন পার্সেন্ট দেয়ার ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, কোকোর পাচার করা টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অক্টোখান নামক একটি কনসালটেন্ট ফার্ম সহায়তা করেছে। ওই ফার্মের মালিক বর্তমান প্রানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস আহমেদ খান। টাকা আনার ব্যাপারে সহায়তা করায় তিনি (ফেরদৌস আহমেদ খান) অর্থ দাবি করে দুদকে আবেদন করেন। আবেদনটি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে। এখনো কোনো টাকা তাকে দেয়া হয়নি।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোকোর পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার জন্য অক্টোখান নামক কনসালটেন্ট ফার্ম দুদকের কাছে উদ্ধারের ‘টেন পার্সেন্ট’ দাবি করে। দুদকের আইনে এ ধরনের প্রণোদনা দেয়ার কোনো বিধান না থাকায় তত্কালীন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে এই মর্মে জানতে চান, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আসা টাকার একটি অংশ সহযোগিতাকারী হিসেবে ফেরদৌসকে দেয়া যায় কি-না? এরপর বদিউজ্জামান দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই মন্ত্রিপরিষদ কোকোর ফেরত আনা অর্থের ৩০ শতাংশ পেতে ফেরদৌসের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দশ শতাংশ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেয়ার অনুমোদন দেয়। এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৩ লাখ টাকা।
দুদক সূত্রে আরো জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে (২০০৭-০৮) দুদক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরীর কমিশন ও তত্কালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিনের নেতৃত্বে গঠিত গুরুতর অপরাধ দমন টাস্কফোর্সের কাজে ‘পরামর্শক’ হিসেবে সহযোগিতা করতেন ফেরদৌস। ফেরদৌস পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট। আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানেও ছিলো তার বিশেষ দক্ষতা।
হাসান মশহুদের কমিশন পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার কিছু দায়িত্ব দেয় ফেরদৌসকে। তবে এ দায়িত্বের বিপরীতে ফেরদৌসকে কোনো নির্দিষ্ট সম্মানী বা পুরস্কার দেয়া হবে কি-না তা উল্লেখ ছিলো না। অপরদিকে কমিশনের আইনেও এ ধরনের কোনো বিধান নেই। তবে কমিশনের আইনে শুধু কমিশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের জন্য পুরস্কার বা প্রণোদনার কথা বলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হন আরাফাত রহমান কোকো। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০০৮ সালের মে মাসে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি বিদেশে চিকিত্সা নিতে যান।
এদিকে কোকো ও তার সহযোগী সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় দুদকের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মামলা করেন। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্সের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা (২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার) ও অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি টাকা (৯ লাখ ৩২ হাজার ইউএস ডলার) সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে অবৈধ উপায়ে পাচার করেছেন আসামিরা।
