রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। গত মার্চ শেষে তাদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে এসব ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কারণে এমনটি হয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে মূলধন ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও কেন্দ ীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এসব বিষয়সহ আরো কিছু বিষয় আলোচনা হয়েছে। সভায় পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এবারের বৈঠকে চারটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, প্রভিশনিং, খেলাপি ঋণ আদায়সহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এছাড়া এইসব ব্যাংকের ঋণ বিতরণের অনিয়ম বাড়ায় ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর বিষয়টি অবহিত করা হয়।
নিয়মানুযায়ী বছরের শুরুতে চারটি ব্যাংকের জন্য আগের বছরের তুলনায় ঋণ বিতরণে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হতো; কিন্তু ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে চলতি বছরে তা কমিয়ে সোনালী ব্যাংকের জন্য ৮ শতাংশ, জনতা ব্যাংক ১২ শতাংশ, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ১০ শতাংশের মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে সোনালী ব্যাংকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জনতা সাত দশমিক ৩৬ শতাংশ, অগ্রণী ছয় দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংক ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাত্ চার ব্যাংকের গড় ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ২০ শতাংশ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটাতে কেন্দ ীয় ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপ কি ছিল সে বিষয়ে জানাতে চায় পর্ষদ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে, চার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত জুনে পাঠানো এক চিঠিতে চার ব্যাংকে ৯ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা ঘাটতির বিপরীতে ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা যোগান দিয়ে মূলধন যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকে ৫ হাজার ২৪৫ কোটি, জনতা ব্যাংকে এক হাজার ১১১ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ২ হাজার ১২০ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। তবে ঘাটতি মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
বৈঠকে জানানো হয়, মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। যা বিতরণকরা মোট ঋণের ২৭ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে রয়েছে ১১ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা যা ৩৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, জনতা ব্যাংকে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা যা ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকে রয়েছে ৫ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা যা ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংকে রয়েছে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা যা ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ডিসেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং যার পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে বলে বৈঠকে বলা হয়।
