চিন্তায়-আলোচনায় বিশ্বকাপের কন্ডিশন

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:২১
এতোদিন ধরে ছোট রান আপে বল করছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ল্যান্ডিংয়ে ব্যথাটা কমতে শুরু করায় মেপে লম্বা রানআপেই কাল বল করলেন। দৃশ্যটা দেখে বাংলাদেশের যে কোনো ক্রিকেট ভক্তেরই খুশি হওয়ার কথা। খুশি হওয়ার কথা ‘এ’ দলের হয়ে অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলতে মাশরাফিকে ইংল্যান্ডে পাঠাতে চাওয়া আকরাম খানেরও। নিকট ভবিষ্যতের জন্য পেস বোলিং নিয়ে একটু হলেও চিন্তা কমবে এবার তার। শুধু নিকট ভবিষ্যতের জন্য নয়, গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আকরাম খান বললেন ২০১৫ বিশ্বকাপের ব্যাপারেও তার মূল চিন্তা এই পেস বোলিং নিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে খেলা বলেই আর সবার মতো পেস বোলিং নিয়ে একটু বেশি চিন্তিত আকরাম খান। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ২০১৫ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে অবশ্য নানামুখী দুশ্চিন্তা ঘুরছে। এই একেবারে বিপরীত কন্ডিশনে দলের সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তো আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্রুপে দুই স্বাগতিক এবং ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো দুই দলের অবস্থান নিয়ে চিন্তা। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে এদের কাউকে টপকেই যেতে হবে। এটা যে কঠিন একটা কাজ, সেটা আকরাম খানও মানছেন, ‘ওখানকার কন্ডিশনের জন্যই কাজটা কঠিন। তবে চ্যালেঞ্জটা আমাদের নিতে হবে।’ প্রধান নির্বাচক থেকে অধিনায়ক; সবাই বলছেন, ২০১৫ বিশ্বকাপ খুব কঠিন এক বিশ্বকাপ। কিন্তু সেখানে একেবারেই উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ শেন জার্গুনসেন। তিনি বলছেন, এই বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না! অন্তত দুটো যুক্তি দেখিয়ে কোচ বলছেন, ‘আমরা মোটেও দুশ্চিন্তিত নই। আমার দুশ্চিন্তা না করার দুটো কারণ আছে। প্রথমত অ্যাডিলেড, ক্যানাবেরা ও মেলবোর্ন এবং নিউজিল্যান্ডের ভেন্যু আমাদের খেলার ধরনের জন্যই আমাদের জন্য মানানসই হবে। দ্বিতীয়ত আমাদের গ্রুপে কিন্তু দুটি বাছাইপর্ব পার হওয়া দলও থাকছে।’ জার্গুনসেন মানছেন পেস বোলিং সহায়ক বলে বাংলাদেশের জন্য এই কন্ডিশনটা একটু ঝামেলা হবে। তবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বলে সব উইকেটই পেস বোলিং সহায়ক হবে, এমনটা মনে করছেন না জার্গুনসেন। বরং তার ধারণা গ্যাবা ছাড়া বাকি উইকেটগুলোতে সামান্য টার্নও পাওয়া যেতে পারে, ‘গ্যাবা ছাড়া সব উইকেটেই আমরা মানিয়ে নিতে পারবো। কোনো কোনো উইকেটে টার্নও পাওয়া যাবে। আমি আর কোরি এই উইকেটগুলো অন্তত ভালো চিনি।’ শেন জার্গুনসেন তার মাতৃভূমির উইকেট যে ভালো চিনবেন, তাতে সন্দেহ নেই। সেই চেনা থেকেই তার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্য কঠিনতম হলেও চ্যালেঞ্জটা তারা পার করতে পারবেন। আর চ্যালেঞ্জ পার করা মানে, জার্গুনসেন লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছেন—দ্বিতীয় রাউন্ড, ‘হ্যা, এই বিশ্বকাপ খুব কঠিন হবে। আপাতত আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা। আমি এবং আমরা কোচিং দলের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে। আসল কাজটা অবশ্য খেলোয়াড়রাই করবে।’ আর খেলোয়াড়দের ব্যাপারে ভালো একটা আশাবাদী কথা শোনালেন আকরাম খান। বাংলাদেশের এই দলটা বেশ কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে খেলছে। তিনি বললেন, আগামী বিশ্বকাপের আগে এই দল নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার ইচ্ছা তাদের নেই। ফলে স্থিতিশীল একটা প্রস্তুতির আশা বাংলাদেশ করতেই পারে।