পুরনো বছরের সব ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলে এ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দারুণ কিছু করতে বদ্ধপরিকর লিওনেল মেসি। আর নতুন বছরে সাফল্যের সূচনাটা তিনি করতে চান লা লিগা থেকেই। গোল ডট কমের উদ্যোগে দেয়া গোল ৫০ পুরস্কার পাওয়া এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার আগামী মৌসুমে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ওয়েবসাইটটিকে একথা বলেন।
বার্সেলোনার হয়ে মেসির সর্বশেষ মৌসুমটিকে একেবারে ব্যর্থ বলা চলে না। রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে কাতালানরা গত বছর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। তবে গত কয়েক বছরে বার্সার যে দুর্দমনীয় রূপটা ছিল সেটা গত বছর ছিল অনেকটাই অনুপস্থিত। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে দুই লেগে ৭-০ গোলের সেই পরাজয় বার্সা সমর্থকরা এখনো হজম করতে পেরেছেন কিনা সন্দেহ। আর সবকিছু মিলিয়ে গত মৌসুমটাকে মেসি নিজেও বলছেন ‘মিশ্র ধরনের’।
কিন্তু নতুন কোচের অধীনে নতুন মৌসুমে সবকিছু নতুন করেই শুরু করতে চান ক্লাবের প্রাণভোমরাটি। আর তাই নিজেকে আরো দক্ষ এবং একাগ্র করে গড়ে তুলতেও চেষ্টার কমতি নেই তার। চারবারের ফিফা বর্ষসেরা এই তারকা গোল ডট কমকে বলেন, ‘আমি দারুণ আশাবাদ এবং উদ্যম নিয়ে নতুন মৌসুমটির দিকে তাকিয়ে আছি। অবশ্য বরাবরই আমি এমন। লা লিগা জিততে পারলেও আগের মৌসুমটিকে আমি পুরোপুরি সফল বলবো না।’
রেকর্ড গড়ে লা লিগা জয়ের সেই সুখস্মৃতি এখনো অমলিন জানিয়ে মেসি আরো বলেন, ‘লিগ জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি হচ্ছে পুরো বছরের পরিশ্রমের ফসল। তবে আমাদের বছর জুড়েই নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেমন ইনজুরি এবং ছোটখাট কিছু বিষয়। বলার অপেক্ষা রাখে না এগুলো আমাদের শক্তি বহুলাংশে খর্ব করেছে। আর টিটোর (ভিলানোভা) অসুস্থতার বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’
তবে এত সমস্যার পরও লিগ জিততে পারাকে বড় করেই দেখতে চাইলেন মেসি, ‘যখন প্রথম আমরা জানতে পারলাম গাণিতিক হিসাবে আমরাই শিরোপা জিতবো, সেটাই ছিল গত বছরের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। আর যদি সবচেয়ে দু:খজনক স্মৃতির কথা বলতে হয় তাহলে কোচ টিটো ভিলানোভার (ক্যান্সার) সমস্যার কথাই বলবো।’
এদিকে তৃতীয়বারের মতো গোল ৫০ পুরস্কার জিততে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মেসি প্রশংসার বৃষ্টিতে ভাসিয়েছেন তার ক্লাব সতীর্থদের। প্রায় চল্লিশ বছর আগে জার্মান কিংবদন্তী গার্ড মুলারের এক মৌসুমে ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে ৯১ গোল দেয়া মেসি গত বছর গড়েছেন ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও। আর এরই পুরস্কারস্বরূপ ৫০ জন সাংবাদিকের মতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন মেসি। এর আগে ২০০৮ এবং ’১১ সালে এই পুরস্কার জেতা তারকাটি বলেন, ‘পুরো বছর সতীর্থদের সাথে আমি পরিশ্রম করে যাই দলকে কিছু সম্মান এনে দেয়ার জন্য। ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্যের কথা ভেবে কেউই খেলে না। তবে আপনি যখন এগুলো পাবেন সেটা বোনাস। আর একইসঙ্গে এটা আপনাকে আরো ভাল কিছু করতে উত্সাহিত করবে।’
