উইকেট নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:২২
কবি ডরোথিয়া ম্যাককিলার বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ানরা নাকি রোদে পুড়তে ভালোবাসেন। কিন্তু আজ থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের রোদে পোড়া ন্যাড়া দেখতে উইকেটকে তারা কতোটা ভালোবাসবেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। আর মাঝ মাঠের ২২ গজ জায়গাটাতেই ছিল ম্যানচেস্টারে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সবচে বড় রহস্যজনক ব্যাপার। বিবর্ণ পিচে কিছু ছোট ফাটলের জন্য পিচ নিয়ে তাই এতো প্রশ্ন নিতান্ত অযৌক্তিক নয়। খালি চোখে তারা যতোটা দেখেছেন তার সবটুকু তাদের আশানুযায়ী হয়নি। অজি দলের সহ-অধিনায়ক ব্র্যাড হাডিন বলেন, ‘ভিন্ন ধরনের কিছু দাগ চোখে পড়লেও আমার মতে সব মিলিয়ে উইকেট অনেক ভাল হবে। বিষয়টা একটু অন্যরকম। দেখে মনে হচ্ছিল উইকেট একদমই পুড়ে গেছে।’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও মানছেন মাঠটির এমন কুখ্যাতির কথা। আর সেই কুখ্যাতিটা কোন দলের জন্য সুখকর না হলেও, পিচের রহস্য নিয়েই এই মাঠটি অ্যাশেজের বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। যদিও মাইকেল ক্লার্ক অফিসিয়ালি আর নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করছেন না, তারপরও একাদশ নির্বাচনে অধিনায়কের ভূমিকা তো থাকবেই। এই পিচে দুজন স্পিনার খেলাবেন কি না সেটা নিয়ে তাকে যথেষ্ট ভাবতেই হচ্ছে, ‘সত্যি কথা বলতে এটা একদমই শুকনো আর অস্বাভাবিক। পিচে বেশ কিছু দাগ আছে; যার কারণে আগে থেকেই এর ধরন নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। বাকি উইকেটগুলোতে সজীব ঘাস থাকলেও এর মধ্যে যা আছে তার সবটাই নির্জীব। আর উইকেট বেশ শক্তও বটে। মনে হচ্ছে প্রথম কয়েকদিন এখানে ব্যাটিং করা সহজ হবে।’ জীবন-মরণ ম্যাচের আগের দিন ক্লার্ককে উইকেট নিয়েই বেশি কথা বলতে হল, ‘ফাস্ট বোলাররা বলকে রিভার্স সুইং করাতে পারবেন আর সময়ের সাথে সাথে বল নিচু হয়ে আসবে। আমার মতে, এই পিচে স্পিন খুব ভাল কাজ করবে। এই অবস্থায় ইংল্যান্ড কি করবে সেটা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। তারা যদি জয়ের জন্য ভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে চায়, তাহলে সেটা হবে দেখার মতো এক বিষয়। বরং এক্ষেত্রে দলের মধ্যে পরিবর্তন আনাতে আমাদের পক্ষেই বেশি সহজ। কারণ প্রথম দুটো ম্যাচে আমরা হেরেছি। তারা সাফল্য পেয়েছে; এই মুহূর্তে পরিবর্তন আনাটা তাদের দলের জন্যই বড় ঝুঁকি।’ প্রথম দুই ম্যাচে খেলা তরুণ স্পিনারের সাথে অস্ট্রেলিয়া দলের একাদশে আজ দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লিঁওকে। আর বল হাতে আসতে পারেন অধিনায়ক ক্লার্কও। এ ব্যাপারে ক্লার্ক বলেন, ‘দরকার হলে আমিও বল করতে প্রস্তুত। পিঠের ইনজুরির কারণে আমি বেশ কিছুদিন অনুশীলনে বল করা চেষ্টা করিনি। নেটে গত মঙ্গলবার দুই ওভার বল করেছি। আর বুধবারও কিছু বল করেছি।’ অ্যাশেজের শুরু থেকেই এমন শুকনো পিচ অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য খুবই প্রত্যাশিত ছিল। কারণ, বছরের শুরুর দিকে ভারতে ধূলিময় পিচে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছিল তাদের। আর গ্রায়াম সোয়ানের সাথে মন্টি পানেসার যোগ হওয়ায় ইংলিশদের স্পিন আক্রমণটাও এখন যথেষ্ট ভীতিকর। এর সাথে কন্ডিশনের সহায়তা তো আছেই। স্পিনের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ানদের অসহায় আত্মসমর্পণকে নিজেদের দুর্বলতা হিসেবেই দেখছেন মাইকেল ক্লার্ক। তার মতে, ভাল স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল শক্তির জায়গা হল পেসাররা। তাই সব সময় আমরা দলের পেস আক্রমণের দিকেই তাকিয়ে থাকি। সত্যি কথা হল, শেন ওয়ার্নের পর থেকে আমাদের দলে ভাল মানের কোন স্পিনার আসেনি। তাই স্পিনের বিপক্ষে ভাল খেলার মতো ব্যাটসম্যানও নেই।’ এর মধ্যেই প্রথম দুটি টেস্ট হারের পর সিরিজ হারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অজিরা। তারপরও এমন উইকেটকে নিজেদের জন্য কল্যাণকর বলেই মানছেন মাইকেল ক্লার্ক, ‘বিপক্ষ দলগুলোও আমাদের এই দুর্বলতার কথা জানে। আর এই অস্ত্র দিয়েই অস্ট্রেলিয়ানদের ঘায়েল করা সবচেয়ে বেশি সহজ। আমার মনে হয়, আমরা যতো বেশি এ ধরনের কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পাবো, ততোই আমাদের মধ্যে উন্নতি আসবে। এ ধরনের কন্ডিশনে আমাদের বোলিং আর ব্যাটিং সব দিক থেকেই উন্নতি আসবে। তাই ব্যাপারটাতে আমি মোটেই বিস্মিত নই।’ এবার উইকেট কোন নতুন বিস্ময় উপহার না দিলেই হল!