রমজানের প্রস্তুতিতে প্রিয়নবী (স.) দোয়া করতেন “হে আল্লাহ্ আমাকে রজব ও সাবানের বরকত দিন এবং রমজানে পৌছে দিন”। অথচ আজ থেকে তেইশ দিন আগে পশ্চিমাকাশে উদিত ‘শাহরুল আযিম’ ‘শাহরুল মুবারাকাত’ নামের রমজানের চাঁদ রহমত, মাগফিরাত, নাযাতের উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে ক্ষয় ও ক্ষীণ হতে হতে কৃষ্ণ পক্ষের শেষ দিনের অপেক্ষায়। সপ্তাহান্তে এক ফালি চাঁদ বিদায় জানাবে রমজানকে। অন্যদিকে রমজানে আপ্লুত মুসল্লির ভিড়-ভারে ভরা মসজিদের বারান্দা ও ছাদ, ঘরে ঘরে কুরআনের আওয়াজ— সবাই আকুলি-ব্যাকুলিতে পাপ মোচন ও মহান আল্লাহ্র তুষ্টিতে ব্যস্ত। অভিশপ্ত শয়তান বন্দী থাকায় মানুষের রিপুতে থাকা শয়তানি কিছুটা থাকলেও তা ইবাদতের কল্যাণে পরিশুদ্ধ হয়ে গেল , যেন ফ্যানের সুইচ অফ্ করবার পর কিছুক্ষণ ঘুরে থেমে যাওয়া। কেননা, এ মাসে ঘোষণা করা হয়-“হে ভালোর অন্বেষী অগ্রসর হও মন্দের অন্বেষী থামো” (তিরমিযি ,ইবনু মজাহ্)। তারপরও তারা বড়ই হতভাগা যারা রমজান পেয়েও বঞ্চিত। কা’ব ইবনু উজরা (রা.) বর্ণিত “রসূল প্রথম সিড়িতে পা রাখলেন ও বললেন ‘আমিন’ রসূল (স.) বলেন, ‘এই মাত্র জিব্রাইল (আ.) আমার কাছে এসেছিলেন; আমি যখন প্রথম সিড়িতে পা রাখলাম তখন জিব্রাইল বললেন ‘ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান পেল অথচ তার গুনাহ্ মাফ হলো না’। আমি বললাম ‘আমিন’ (তারগীব, ইবনু হিব্বান,তাবারানী , বাইহাকী)। অর্থাত্ যে রমজান পেল অথচ নিঃষ্পাপ হলো না সে অভিশপ্ত, জিব্রাইল (আ.) তার জন্য বদ-দোয়া করেছেন। ‘দুররে মানসুর’ গ্রন্থে আছে রাসুল (স.) ‘আমিন বলায়’ বক্তব্যের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। আর রমজান তো তওবার সুযোগ এনে দেয়। পাপ কাজ ত্যাগ, কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে পাপ না করবার সংকল্পকে তওবা বলে। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) এর শিক্ষা হলো— ‘মানুষ পাপের জন্য এমন অস্থির হবে যেমন সন্তান হারা মা তার সন্তানকে পাওয়ার জন্য অস্থির হয়-যখন গুনাহগার বান্দাও এমনই অস্থিরতায় আল্লাহ্র কাছে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করে তখনই আল্লাহ্ বান্দাকে ক্ষমা করেন’। এ প্রসঙ্গে বুখারি শরীফের দীর্ঘ বর্ণনায় পাওয়া যায়— এক বেদুইন-মুসাফির তার সর্বস্ত হারিয়ে নিরূপায় ও অস্থির মনে নিজের মৃত্যু কামনা করছে ! এমন সময় তার হারান সম্পদ ফিরে পাওয়ার আনন্দ ও উত্তেজনায় সে বলছে— “আন্তা আবিদ ওয়া আনা রব্বুক্ অর্থাত্ আল্লাহ্ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু ”! (আসলে বলবার কথা— আল্লাহ্ তুমিই আমার প্রভু আর আমি তোমার বান্দা) আর বাস্তুহারা পথিক তার সম্বল ফিরে পাওয়ার আনন্দে যেমন খুশি হয় — পাপী ও পথহারা বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্র দরবারে হাজির হয় তখন আল্লাহ্ তার চেয়েও বেশি খুশি হন। রোজা মানুষকে কথাবার্তায় সংযমী করে। রমজানের বিদায় বেলায় ভাবা উচিত আমরা আচরণে কতটই বা সংযমী হলাম? মনে রাখতে হবে রোজার পরও থাকবে শাওয়াল মাসে বিশেষ ছয়টি রোজা এবং শুরু হবে হজ্জ্বের প্রস্তুতি।
