চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র আট দশমিক ৪২ শতাংশ আদায় করতে পেরেছে অগ্রণী ব্যাংক। এ সময়ে তাদের আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক হাজার ৪৮ কোটি টাকা। লোকসানী শাখার সংখ্যাও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এসব মিলিয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকেরও সার্বিক সূচক খারাপের দিকে। এ অবস্থায় এ দুই ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতির বিষয়েও একই মনোভাব প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বুধবার বৈঠক ছিল রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে উভয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জনতা ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের নতুন কোনো শাখা খোলা হয়নি। ব্যাংকের ৮৮৯টি শাখার মধ্যে গত মার্চ পযন্ত লোকসানী শাখা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮টিতে। অথচ ডিসেম্বরে লোকসানী শাখা ছিল ৩৪টি। এ সময়ে ব্যাংকটি প্রায় ১৮ কোটি টাকার মতো ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। অবলোপন করেছে ২৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এরপরও মার্চ শেষে তাদের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ২৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিলো। সব মিলিয়ে তাদের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১২০ কোটি টাকা, ডিসেম্ব্বরে যা ছিলো ৪৪৮ কোটি টাকা। আর নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি দেখা দিয়েছে ২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। তবে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি থেকে ২৭ কোটি টাকা আদায় করেছে যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৩ শতাংশ।
রূপালী ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংকের ৫০৯টি শাখার মধ্যে মার্চ শেষে লোকসানী শাখা আরও বেড়ে ৩২টিতে দাঁড়িয়েছে। তিন মাস আগে অর্থাত্ ডিসেম্বরে লোকসানে ছিলো মাত্র ১২টি। আর আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিলো ৪টি। খেলাপি ঋণ বেড়ে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে যা মোট ঋণের ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
