সভ্যতার ছোঁয়া পড়েনি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের ঠাকুরপুর-ফুলবাড়ি ও চাকুলিয়া গ্রামে। এ গ্রামগুলোতে নেই পাকা রাস্তা; এবং বিদ্যুত্ ব্যবস্থা। সভ্যতার দুটি নিদর্শন এ গ্রামের মানুষ দেখেনি। হতদরিদ্র ঘেরা এ গ্রামের ৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তার জন্য মানুষজন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খাম্বা ও বিদ্যুতের তার প্রত্যেক ঘরে ঘরে দেখা গেলেও তাতে নেই বিদ্যুত্ সংযোগ। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অনিয়ম ও অব্যবস্থা রুখতে না পারার কারণে এখানকার বসবাসরত মানুষের ২৫০টি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি। নিদারুণ যন্ত্রণা আর কষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছে ঠাকুরপুর ও ফুলবাড়ি এবং চাকুলিয়া গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার গ্রামবাসী।
সরেজমিনে এ ৩টি গ্রামে গেলে ওই গ্রামের মানুষ তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। চাকুলিয়া গ্রামে কথা হয় কৃষক রমজান আলী, কার্পাসডাঙ্গা কলেজ ছাত্র সাদ্দাম হোসেন, গৃহিণী সাবিনা খাতুন, কৃষক আলিম ও জামাত আলী বিশ্বাসের সঙ্গে। তারা বলেন, এ গ্রামগুলো হতে কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার হলেও অত্যন্ত নিম্নমানের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তারা নিতান্ত জরুরি কাজ ছাড়া ওই ইউনিয়নে যায় না। কিন্তু কিছুটা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার হলেও সেখানে তারা বাজারঘাটসহ অন্য কাজে যায়। গ্রামের কাঁচা রাস্তা বর্ষাকালে কাদা ও শুকনো সময়ে বড় বড় গর্ত হয়ে থাকার কারণে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। তারা বলে, গ্রাম থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষাঙ্গনে যেতে পারে না। কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ফসল মাঠ থেকে আনতে হিমশিম খায়। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে তাদের ফসল ঘরে তুলে আনতে হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিত্সা দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হয় না। বর্ষাকালে এ গ্রাম থেকে কেউ বাজারে যায় না। এ গ্রামে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে আর পুরুষরা এ গ্রামের মেয়ে বিয়ে করতে চায় না। ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া খুবই কষ্টকর।
কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের ঠাকুরপুর ও ফুলবাড়ি গ্রামে রয়েছে ২টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ব্যাটালিয়ন সদস্যদের চোরাচালান বিরোধী টহল দিতে সমস্যা হয়। রাস্তা পাকা করার জন্য বিজিবি’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু তা কাজে আসেনি। এ গ্রামগুলোতে ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে তাও আবার সেটা জনসংখ্যার বিবেচনায় ফুলবাড়ি গ্রামে অবস্থিত। অন্য দুটি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা সঠিকভাবে পাচ্ছে না।
