মুদ্রানীতি উন্নয়নকে কতটুকু প্রভাবিত করে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ১৭:২২
উচ্চাভিলাষ সম্পন্ন প্রতিটি জাতি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়। দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প প্রণয়ন করে। রূপকল্পের লক্ষ্যগুলো পূরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পঞ্চবার্ষিক, দ্বিবার্ষিক ও বার্ষিকসহ বিভিন্ন মেয়াদী কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকারই এসব উদ্যোগ নেয়। এটাই সরকারের মুখ্য দায়িত্ব। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানতঃ অর্থ, প্রযুক্তি, মেধাসম্পদ, জনসম্পদ, উন্নয়নের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং জাতীয় ঐক্য ও একাগ্রতার প্রয়োজন হয়। সরকার বিভিন্ন উত্স থেকে অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করে। লক্ষ্য পূরণে কর্মকৌশল ঠিক করে। সেই অনুযায়ী সবার মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকার সবকিছু নিজে বাস্তবায়ন করে না। যুুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ অনেক উন্নত দেশে সরকার জাতীয় লক্ষ্য পূরণের কাজগুলো বেসরকারি খাত ও স্থানীয় সরকার দিয়ে করিয়ে নেয়। এতে সরকারের আকার ছোট থাকে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কার্যকর তদারকি করা যায়। জনগণের অর্থ-সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। উন্নয়নের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মুদ্রানীতি। যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, মূল্যস্ফীতি, সম্পদ মূল্য, বিনিময় হার, ভোক্তা চাহিদা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে। মুদ্রানীতি একটি জটিল মুদ্রাকৌশল। বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণমূলক ও সংকোচনমূলক এই দুই ধরনের মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়। অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতিতে সুদের হার কম থাকে। এতে মূলধন বিনিয়োগ বাড়ে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পথ সুগম হয়। দেশীয় মুদ্রার মান তথা বিনিময় হার হ্রাস পায়। রপ্তানি উত্সাহিত হয়। ফলে রপ্তানি বাড়ে। আবার পণ্যের আমদানি মূল্য বেশি পড়ে বলে আমদানি হ্রাস পায়। বাণিজ্য ভারসাম্য ধনাত্মক হয়। দেশ আমদানি-নির্ভর হলে মূল্যস্ফীতি ঘটে। এর বিপরীত চিত্র দেখা যায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে। সুদহার বাড়িয়ে অর্থ প্রবাহের রাশ টেনে ধরা হয়। সার্বভৌম বন্ডের দাম হ্রাস পায়। ফলে মূলধন বিনিয়োগ হ্রাস পায়। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকোচিত হয়। দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার বাড়ে। যা রপ্তানিকে নিরুত্সাহিত করে এবং আমদানি বাড়ে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়। তবে মূল্যস্ফীতির প্রবণতা রোধ করা যায়। প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জন করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই দুটির একটি পথ বেছে নেয় বিভিন্ন দেশ। তবে ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক সংকট ও মন্দার কারণে কোনো দেশই একক নীতিতে স্থির থাকতে পারেনি। এমনকি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা চীন ও ভারতও ২০১২ সাল থেকে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ কংগ্রেসের দেয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। মুদ্রানীতি প্রণয়নকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি বছরে অন্তত আটটি সভা করে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সংযত দীর্ঘমেয়াদী সুদহার বজায় রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। সে অনুযায়ী মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনে। তারা প্রতি বছর জানুয়ারিতে এ কাজটি করে। সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের নীতি সহজভাবে উপস্থাপন করে। এর ফলে সবাই জেনে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, মুদ্রানীতির কার্যকরতা বাড়ে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। ফেডারেল রিজার্ভ তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের মধ্যে রাখতে পেরেছে। কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা এবং সুদহার স্থিতিশীল রাখাই তাদের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য। তাই তারা প্রয়োজনে বাজার থেকে বন্ড কিনে মুদ্রার প্রবাহ শিথিল করে। বিগত ছয় মাস ধরে ফেডারেল রিজার্ভ এ কাজটি করেছে। ভোক্তা চাহিদা বাড়তে থাকায় এখন বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে। ফেডারেল রিজার্ভ সম্প্রসারণমূলক ও সংকোচনমূলক নীতির মাঝামাঝি একটি অবস্থান নিয়েছে। চীন ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। ১৯৮০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এ ৩০ বছরে দেশটির গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৩৮০ ডলার থেকে ৭ হাজার ৬৩০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে বিনিয়োগ কমতে শুরু করেছে। অর্থনীতির গতি মন্থর হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের বেশি হয়ে যাওয়ার ভয়ে সুদহার কমাতে পারছে না। তাই তারাও এখন মুদ্রানীতিতে মিশ্র কৌশল অবলম্বন করেছে। একই কৌশল অবলম্বন করেছে ভারত। তাদের বিনিয়োগ সুদহার ও কর্মসংস্থানের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতি ঠেকানো ও রুপীর বিনিময় হারে ক্রমহ্রাস বন্ধ করা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশই মিশ্র মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি জুলাই-ডিসেম্বর ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রসারণমূলক ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাঝামাঝি একটি ভারসাম্যপূর্ণ মুদ্রাকৌশল অবলম্বন করেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। সরকার স্বাভাবিকভাবেই চাইবে মুদ্রানীতির কারণে জনগণ যাতে নতুন কোনো দুর্ভোগে না পড়ে। পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে। এ লক্ষ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিই সাধারণ কৌশল। কিন্তু এতে বিনিয়োগ কমে যাবে। নতুন কর্মসংস্থান হবে না। আবার সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে ঠিকই। মূল্যস্ফীতিও ঘটবে। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উভয় কৌশলই প্রয়োজন। একদিকে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। তা না হলে আসন্ন নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অপরদিকে মূলধন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই বেকারদের কর্মের ব্যবস্থা করতে না পারলে অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার টেকসই করা যাবে না। সামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাঝামাঝি অবস্থান নিয়েছে। যাতে বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির সীমা ছিল ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য বলেছে যে ঘন ঘন হরতাল ও রাজনৈতিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে এবং ব্যবসায়ীরা সাশ্রয়ী সুদে বৈদেশিক ঋণের সুযোগ নেয়ায় বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ ঋণ চাহিদার প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা ঠিক রেখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি গতিশীল রাখা হবে। এই মধ্যপন্থা নীতির কারণে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হার লক্ষ্য অনুযায়ী ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব নাও হতে পারে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করলেও রূপকল্প ২০২১-এর মসৃণ বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হতে পারে। তবে ২০১৪ সালে সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হলে বিনিয়োগের বর্তমান কম প্রবৃদ্ধি পুষিয়ে নেয়া যাবে। অর্থনীতিতে অর্থ যোগান দেয়ার কৌশল হিসেবে মুদ্রানীতি অর্থনীতির ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। উন্নত বিশ্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার সর্বনিম্নে নামিয়ে এনেছে। অর্থ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা এনেছে। অর্থবাজারের অস্থিরতা কমিয়েছে। এসব অপ্রচলিত নীতির কিছু গভীর নেতিবাচক প্রভাব আছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি উন্নত দেশগুলোর মন্দাকালীন ও মন্দা-পরবর্তী আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাবের ওপর বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান ও ইউরো অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অর্থবাজার স্থিতিশীল করতে অর্থ ব্যবস্থায় নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। সার্বভৌম বন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে সুদহার প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। এতে দেশগুলো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। যদিও এ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি অত্যন্ত মন্থর। আইএমএফ এসব দেশকে একই মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। নতুবা দেশগুলো আবার আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। এ নীতি অবলম্বন করে যেসব দেশ অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল করতে পারেনি বা আরও খারাপ হয়েছে যেমন ইউরোজোনের গ্রীস, পর্তুগাল, স্পেন, ইতালী ও আয়ারল্যান্ড তাদেরকেও এ নীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে এক সাক্ষাত্কারে দেশটিতে ধনী-গরীব বৈষম্য বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিও গত এক দশক ধরে গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে দেশের দারিদ্র্য হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মানুষের আয় বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সমাজে। সমাজের প্রতিটি খাতেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ ব্যাপারে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় এক সাক্ষাত্কারে বলেন, অর্থনীতির অনেক সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এগিয়ে। কিন্তু সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত পেছনে। পিছিয়ে থাকা ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে ভারত। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কী-মুন আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি রোল মডেল। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর করার চেয়ে তা ত্রুটিমুক্ত রাখা অনেক কঠিন। নতুন মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে তা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখতে আগাম পরিকল্পনা রাখতে হবে। যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা অন্যান্য কারণে আকস্মিক কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলা করতে পারে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও তত্পর হতে হবে।