দর্শনা কেরু চিনিকলের ৩৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৮
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোমপানি চিনিকলের গুদামে মজুদ পড়ে আছে প্রায় সাত হাজার টন চিনি। মিলগেট দর অনুযায়ী যার বর্তমান মূল্য ৩৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি সাত চিনি রিফাইনারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করায় প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না সরকারি চিনিকলগুলো। একই কারণে ডিলাররা কেরুর চিনি তুলছেন না এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। এদিকে বাজার মূল্যের পার্থক্য থাকায় ডিলাররা চিনি উত্তোলন না করায় বিপুল পরিমাণ চিনি নিয়ে বিপাকে পড়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কেরু অ্যান্ড কোমপানি ২০১১-১২ আখ মাড়াই মওসুমে চার হাজার ৩শ’ টন চিনি উত্পাদন করে। এ চিনি কোনো ডিলার না তুললেও মাস খানেক আগে কিশোরগঞ্জের দেশবন্ধু রিফাইনারী মিল দু’হাজার ১৫০ টন চিনি কেরু থেকে কিনে বিদেশে রফতানি করে। এরপর ২০১২-১৩ আখ মাড়াই মওসুমে চিনিকলটি ৪ হাজার ৯৫১ টন চিনি উত্পাদন করে। এর মধ্যে মেহেরপুর পুলিশ লাইনসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত মাত্র ৪২ টন চিনি উত্তোলন করেছে। বাকি ৬ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৯০ টন চিনি কেরুর গুদামে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে দর্শনার চিনির ডিলার আবেদ আলী, আব্দুল খালেক ও আব্দুর রহিম জানান, ‘বর্তমানে বেসরকারি চিনি ৫০ কেজির বস্তা দু’হাজার ১শ’ টাকা বাজারে বিক্রি হলেও কেরুর চিনির সরকার নির্ধারিত মিল গেটের দাম ২ হাজার ৫শ’ টাকা। খুচরা ৫৫ টাকা কেজির নিচে বিক্রি করলে লাভ হবে না’। বরাদ্দ থাকলেও নিশ্চিত লোকসানের আশঙ্কায় চুয়াডাঙ্গার ১০ জন ডিলার ও সাতজন থানা ডিলার কোনো মাসে চিনি তোলেন না। এছাড়া দেশের ৬৭ জন থানা পরিবেশকও চিনিকল থেকে কোনো চিনি তোলেন না। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকলটিতে চিনি উত্পাদনের ক্ষেত্রে ৯০ দশকের পর থেকে লোকসান হচ্ছে।