হরতালে চাকরিজীবীদের ঈদ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৪
রাজধানীতে বসবাসকারীদের অনেকেই ঈদ উপলক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আবার ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের আগের কয়েকদিন যানবাহনে যাত্রীর অস্বাভাবিক চাপ থাকবে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ ঈদের এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়িতে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হবার চেষ্টা করছেন। তবে ঈদের পর আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আহবান করায় চাকরিজীবীদের ঈদ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি যাওয়ার পর আবার ঢাকায় ফিরবেন কি করে, এই চিন্তায় কেউ কেউ বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনাও বাদ দিচ্ছেন। শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীর মতিঝিলে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারে কথা হয় নুরুজ্জামান লিপনের সঙ্গে। কক্সবাজারের চকোরিয়ার এই যুবক জানালেন, ঢাকায় একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে ছুটি মিলবে ৮ তারিখে। কিন্তু ওইদিন বাড়ি যাওয়ার জন্য মাত্র ১টি টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এ কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তার মতো এমন আরও অনেককেই দেখা গেল পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিতে। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় কিছুটা বেশি। কাউন্টার থেকে তাত্ক্ষণিক টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা। এদিকে গতকাল শুক্রবার ভোর থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের বেশ ভিড় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন কর্মীরা। ঢাকা-কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী এসবি পরিবহনের এক কর্মী জানালেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা মূলত শুক্রবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে। তবে এদিন মহিলা ও শিশু যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। কর্মজীবীদের অনেকেই ঈদের আগের দু’দিনের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে স্ত্রী-সন্তানকে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানোর সুবিধার্থে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। আবার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ছুটি পেয়ে ইতিমধ্যেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তবে ১২ ও ১৩ তারিখের হরতালের কারণে কেউ কেউ তাদের টিকিট ফেরত দিতে আসছেন। এমনই একজনের দেখা মিলেছে গাবতলীতে। রুহুল বাশার নামের এই যুবক জানান, ৭ আগস্ট সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য ২টি টিকিট নিয়েছিলেন তিনি। ১৩ তারিখে তার অফিস খোলা। এ জন্য ১২ তারিখ রাতে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এখন জামায়াতের ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কারণে বাড়ি যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়েছেন। তাই টিকিট ফেরত দিতে গাবতলী এসেছেন।