তখন আমি কলেজের ছাত্র। আমার উপর দায়িত্ব পড়ল ব্যাঙের ডাক রেকর্ড করে আমেরিকায় পাঠাতে হবে হুমায়ূন আহমেদের কাছে। কি জ্বালা! এখন এই সিজনে ব্যাঙ কোথায় পাই? কী আর করা আমার এক দুঃসাহসী বন্ধুকে নিয়ে বেরুলাম। কে যেন বলল সংসদ ভবনের সামনের ক্রিসেন্ট লেকে ব্যাঙ আছে, সে নাকি ডাকতেও শুনেছে, তবে যেতে হবে সন্ধ্যায়। গেলাম সেই বন্ধুকে নিয়ে। কিন্তু কি কপাল সংসদ চত্বরের পেট্রোল পুলিশ ধরল
—এখানে কী হচ্ছে?
—ব্যাঙের ডাক রেকর্ড করছি। আমি ব্যাখ্যা করি। পাশে তাকিয়ে দেখি আমার সাহসী বন্ধু উধাও!
—কেন?
—বিদেশে ব্যাঙের ডাক পাঠাতে হবে।
—কার কাছে
—এক লেখকের কাছে
—লেখকের নাম কি?
—হুমায়ূন আহমেদ, আমি তার ছোট ভাই।
এবার পুলিশ তিনজন একসঙ্গে গর্জন করে উঠল, ‘এদিকে ব্যাঙ কোথায়? আমাদের সঙ্গে আসেন।’ বলাই বাহুল্য পরে ব্যাঙের ডাক রেকর্ড করতে আর সমস্যা হলো না।
হুমায়ূন আহমেদ চেইন স্মোকারের চেয়েও বেশি কিছু থাকলে সেটাই ছিল। বেশি খাওয়া হয়ে যাবে তাই একটা একটা করে কিনত আর সে কাজটা করতে হতো আমাকে। একটু পর পরই হুকুম ‘যাতো একটা সিগারেট নিয়ে আয়’, আমি ছুটতাম। কিন্তু কত আর দৌড়ানো যায়। একদিন মাথায় বুদ্ধির এনার্জি বাল্ব জ্বলে উঠল। নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েক প্যাকেট বৃস্টল সিগারেট কিনে ফেললাম। পাইকারি রেটে কিনেছি। আশা করছি এই চোটে কিছু ব্যবসাও হয়ে যাবে।
যথারীতি ডাক পড়ল
—যাতো একটা সিগারেট নিয়ে আয়।
আমি চিকন হাসি মুখে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছি। এবার আর দোকানে ছুটতে হবে না। নিজের গোপন জায়গা থেকে এক শলা বৃস্টল...
—শোন শোন... বড় ভাই ডাকে
—কী?
—বৃস্টল আনিস না। ক্যাপস্ট্যান আন। আমি ব্র্যান্ড চেঞ্জ করেছি।
তার সিগারেট খাওয়ার সেই গল্প তো সে নিজেই লিখেছে।
প্লেনে করে আমেরিকা না কোথায় যাচ্ছে। সিগারেটের নেশা চেপেছে, কী করা...। সে এয়ার হোস্টেজকে ডেকে বলল—
—সিগারেট খাওয়া যাবে?
—না প্লেনের ভিতার ধূমপান করলে দু শ ডলার ফাইন।
বড়ভাই চারশ ডলার দিয়ে বলল,
—আমি এখন দুটো সিগারেট খাব। হতভম্ব এয়ার হোস্টেজ ছুটে গেল ক্যাপ্টেনের কাছে। পরে ক্যাপ্টেন তাকে ডেকে পাঠাল ককপিটে। বলল,
—ডলার দিতে হবে না। তুমি এখানে বসে সিগারেট খাও।
নিউ মার্কেটে গোস্ত কিনতে গেছে সে সাথে ব্যাগ হাতে আমি। সে এক দোকানে গিয়ে বলল, ‘ভালো দেখে এক কেজি গোস্ত দাও।’ গোস্তওলা দিল।
—গোস্ত ভালো তো?
—স্যার এক নম্বর।
বড় ভাই পাশের দোকানে গিয়ে বলল
—এক কেজি গোস্ত দাও।
আগের গোস্তওলা বলল,
—স্যার আপনি দু কেজি মাংস নিবেন আমার এখান থেকেই তো নিতে পারতেন।
—না আমি এখানে সবার কাছ থেকে এক কেজি করে নেব। যারটা ভালো হবে এরপর সবসময় তার কাছ থেকেই নেব।
এই কথা শুনে আগের গোস্তওলা তার ব্যাগ টেনে নিয়ে গেল তার কাছে আগের গোস্ত রেখে নতুন করে গোস্ত কাটতে লাগল।
