বিশ্ব ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে লিভারপুল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হারানো স্থান পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে স্বীকার করেছেন ক্লাবের অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড।
জেরার্ড বেশ ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন যে ইউরোপের এলিট ক্লাবের এই প্রতিযোগিতায় গত চার বছর ধরে অনুপস্থিতি ক্লাবের জন্য অনেক বড় এক ক্ষতি। যার প্রভাবে ইতোমধ্যেই দলের তারকা খেলোয়াড়রা ক্লাব ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমন হতে থাকলে ভবিষ্যতে লিভারপুলে আর কোন বড় তারকাই খুঁজে পাওয়া যাবে না। রেডস স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ইতোমধ্যেই অ্যানফিল্ড ছেড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী কোন দলের সাথে চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে লিভারপুলের ম্যানেজার ব্রেন্ডন রজার্স অন্য ক্লাব থেকে শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আনফিল্ডে আনতেও অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছেন। যাদের মধ্যে গত মাসে শাখতার ডোনেস্ক থেকে হেনরিখ মিখাইটারিয়ানকে আনতে ব্যর্থ হন রজার্স। পরবর্তীতে এই আর্মেনিয়ান জার্মান জায়ান্ট বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন।
শনিবার অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে মাঠের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে জেরার্ডের দল। তার আগে সুয়ারেজের কাছ থেকে বড় কিছুই আশা করছে রজার্স শিষ্যরা। ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার জেরার্ডও সুয়ারেজকে দলে রাখার ইচ্ছা ইতোমধ্যেই ব্যক্ত করেছেন। আর্সেনাল থেকে দু’বার বিড করা সত্ত্বেও সুয়ারেজকে দলে রেখে দিতে জেরার্ড দারুণভাবে আগ্রহী। কিন্তু সাথে সাথে জেরার্ড একথাও অকপটেই স্বীকার করেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত শীর্ষ চারের মধ্যে লিভারপুল পৌঁছাতে না পারবে ততক্ষণ দলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পাওয়া বেশ কঠিন হবে। জেরার্ড বলেন, ‘আমি মনে করি সুয়ারেজের ব্যাপারে একমাত্র সে নিজেই ভাল জানে। তার এই মুহূর্তে অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পুরো দলের পক্ষ থেকে আমি তার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই এবং নিশ্চিত করতে চাই সে যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি সবাই জানে আমি তার সাথে কিভাবে আচরণ করি এবং তাকে দলে রাখার ব্যাপারে আমি কতটা আগ্রহী। আমি বিশ্বাস করি তার যাওয়া না যাওয়ার উপরই মূলত এবারের মৌসুমে আমাদের সবকিছু নির্ভর করছে। এখনো অ্যানফিল্ডের সাথে আমার দু’বছরের চুক্তি বাকি আছে। কে জানে হয়ত এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। যতদিন সম্ভব আমি এখানে থাকতে চাই। আর তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা পুনরায় অর্জন করার পরেই আমি ক্লাব ছাড়তে চাই। ব্যক্তিগতভাবে ক্লাবের কাছে এটি আমার একটি চ্যালেঞ্জ।
আমি যখন ক্লাবে যোগ দিয়েছিলাম সেই ক্লাবের সাথে বর্তমান ক্লাবের কোন মিল নেই। এখন লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলে না। তাই শীর্ষ সারির খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। চার-পাঁচ বছর আগে আমরা যে স্থানে ছিলাম সেখানে ফিরে যাবার সময় এসে গেছে। তখন আমরা বেশ সহজেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতাম। এমনকি সেখানে শিরোপা জয়ের প্রতিযোগিতায়ও আমরা বেশ এগিয়ে ছিলাম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা যেকোন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মুহূর্ত। কারণ হাজার হাজার দর্শকের সামনে ইউরোপীয়ান ফুটবল খেলা সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচটির কথা মনে করতে গিয়ে অ্যানফিল্ডে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ম্যাচটির কথা উল্লে¬খ করেছেন জেরার্ড। যে ম্যাচে শেষ মুহূর্তে তার গোলে লিভারপুল কোন রকমে নক আউট পর্ব থেকে বিদায় নেয়া থেকে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে ইস্তাম্বুলে এসি মিলানের বিপক্ষে ফাইনালে দারুণ এক ম্যাচ শেষে শিরোপা জয় করেছিল লিভারপুল। -বাসস
