নেইমারের আলো কাড়লেন

মেসি-ফ্যাব্রেগাস

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৫
ন্যু ক্যাম্পে অভিষেকে গোল না পেলেও হতাশ নন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনায় খেলাটা আমার সৌভাগ্য। সেস ফ্যাব্রেগাস, মেসিকে আমি আদর্শ মানি। গোল না পেলেও আমি হতাশ নই। সামনে গোল আসবে।’ ম্যাচটি আসলে লেখা ছিল নেইমারের নামে। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নামছে তার বর্তমান ক্লাব। শক্তিমত্তার দিক থেকেও দল দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ফুটবলামোদীরাও অপেক্ষায় ছিলেন নেইমারের ঝলক দেখার অপেক্ষায়। প্রথমার্ধে না নামলেও দ্বিতীয়ার্ধে নামলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আলোটা আর তার দিকে থাকলো না। সেই আলোর অনেকটাই নিয়ে নিলেন আরেক প্রতিভাবান তারকা লিওনেল মেসি ও সেস ফ্যাব্রেগাস। আর সব মিলিয়ে প্রাক মৌসুম প্রস্তুতিতে আরেকটি জয় পেল বার্সেলোনা। আর জয়ের ব্যবধানটাও ঠিক বার্সেলোনার নামের সাথে যুত্সই। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব স্যান্তোসকে তারা হারিয়েছে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। গুজবটা অনেকদিন ধরেই ছিল; আর সেসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাতে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে এই গত মে মাসেই পাড়ি জমিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার দস স্যান্তোস। ব্রাজিল ছাড়ার পর এটাই ছিল সাবেক ক্লাব স্যান্তোসের বিপক্ষে নেইমারের প্রথম ম্যাচ। তাই এই ম্যাচকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথমার্ধে তাকে মাঠেই নামাননি কাতালানদের নতুন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। দ্বিতীয়ার্ধে যখন নামলেন তখন বার্সেলোনা এগিয়ে গেছে ৪-০ গোলে। ম্যাচটি ছিল মূলত প্রীতি ম্যাচ। বার্সেলোনা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জোয়ার গ্যাম্পারের স্মরণে প্রতিবছরই এই ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এবার এই ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ পায় স্যান্তোস। আর শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরাই জিতলো এই ট্রফির শিরোপা। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন চারবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি, আলেক্সিস সানচেজ (২টি), পেদ্রো, সেস ফ্যাব্রেগাস, আদ্রিয়ানো ও জ্য-মারি ডঙ্গু। আর এটা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। এ নিয়ে ৪৮ বারের মধ্যে ৩৬ বারই ট্রফি জিতলো স্বাগতিকরা। এ ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে খেললেন মেসি আর নেইমার। শুরুর একাদশে মেসি থাকলেও নেইমারকে কোচ মাঠে নামান দ্বিতীয়ার্ধে। খেলার ৯ মিনিটের মাথায় গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মেসি। এর কিছু পরই নিজের জালে বল জড়িয়ে সান্তোসকে হতাশায় পোড়ান ডিফেন্ডার লিওনার্দো। ২২ মিনিটের মেসির বাড়ানো বল থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান সানচেজ। এরপর নীচু ক্রস থেকে পেদ্রোর গোলে আধা ঘণ্টাতেই ৪ গোলে এগিয়ে যায় কাতালান ক্লাবটি। বিরতিতে দলে আটটি পরিববর্তন এলেও বার্সেলোনার ছন্দ এতটুকুও কমেনি। ৫৩ মিনিটে নিজের প্রথম গোলটি করেন দারুণ ছন্দে থাকা ফ্যাব্রেগাস। নেইমারের পাস থেকে ৬৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্সেনালের সাবেক এই ফুটবলার। তার একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে পারেননি এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। পোস্ট গোলবঞ্চিত করে সান্তোসের সাবেক তারকা নেইমারকেও। দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রথমবারের মতো মেসি আর নেইমারকে একসঙ্গে খেলতে দেখা যায়। মেসিকে উঠিয়ে নেয়ার আগে দু’জন একসঙ্গে মাঠে ছিলেন ১৬ মিনিট।ম্যাচের ৭৫ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আদ্রিয়ানো। আর ৭ মিনিট বাকি থাকতে ক্যামেরুনের ১৮ বছর বয়স্ক স্ট্রাইকার ড্য মারি ডঙ্গু স্যান্তোসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। ন্যু ক্যাম্পে অভিষেকে গোল না পেলেও হতাশ নন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনায় খেলাটা আমার সৌভাগ্য। সেস ফ্যাব্রেগাস, মেসিকে আমি আদর্শ মানি। গোল না পেলেও আমি হতাশ নই। সামনে গোল আসবে।’ বার্সেলোনার নতুন কোচ মার্টিনোও নেইমারের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের খেলার সাথে মানিয়ে নিতে ওর একটু সময় লাগছে। আরও কয়েকটা ট্রেনিং সেশন যাক; সে চিরচেনা রূপে ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে তাকে নিয়ে আমরা আশাবাদী।’