আবার ঢাকায় আসছে আর্জেন্টিনা?

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৬
মেসি, হিগুয়েনরা বাংলাদেশে খেলার কারণে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ইমেজ বেড়েছে। আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপদ দেশ হিসাবে জেনেছে সবাই। তারই প্রমাণ, আবার বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। এখন দেখা যাক অর্থের প্রস্তাবটা সালাহউদ্দিন কতটা বহন করতে পারেন। তার উপর নির্ভর করছে ঢাকার মাঠে দ্বিতীয়বার মেসি দর্শন। আর্জেন্টিনা ফুটবল আবার ঢাকায় আসতে চায়। আবার ঢাকায় প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৮৬ বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা। খবরটি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। আর্জেন্টিনা থাইল্যান্ডে আসবে প্রীতি ম্যাচ খেলতে। সেখান থেকে ঢাকায় এসে ম্যাচ খেলতে চেয়েছে। এব্যাপারে বাফুফেতে কোনো ফ্যাক্স বার্তা কিংবা ইমেল আসেনি। গতকাল দুপুরে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বাফুফে ভবনে তার রুমে বসে ছিলেন। থাইল্যান্ড থেকে মোবাইলে ফোন আসে। বাংলাদেশের ফুটবল বন্ধু থাইল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওরাউই মাকুদি কাল দুপুরে নিজেই ফোন করেছেন। বাফুফে সভাপতি সালাহউদ্দিনের সাথে অনেটা সময় কথা বলেছেন। জানিয়েছেন থাইল্যান্ডে আসবে অর্জেন্টিনা ফুটবল দল। তোমরা আর্জেন্টিনাকে ঢাকায় আনতে চাও কিনা ? কাজী সালাহউদ্দিন হ্যাঁ সূচক সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে চাইলেই তো আনা সম্ভব না। বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। বাফুফে সভাপতি ফোনেই জানতে চেয়েছেন কমপক্ষে কত টাকা হলে আনা যাবে। সেটা জানাতে পারেননি মাকুদি। সালাহউদ্দিন আগে জানতে চান আর্জেন্টিনাকে আনতে হলে টাকা দিয়ে আনতে হবে। সেটা জানতে পারলে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। মাকুদিকে সালাহউদ্দিন জানিয়েছে অর্থের অংকটা আমাকে জানান প্লিজ। মাকুদি সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এজন্যই আর্জেন্টিনার খবরটা সালাহউদ্দিনকে জানিয়েছেন। মাকুদির বরাত দিয়ে সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘মাকুদি বলেছেন আর্জেন্টিনা নিজেই বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ মোবাইল ফোনের কথোপকথন শেষ করে সালাহউদ্দিন বেশ খুশি কিন্তু কষ্টের কথাটা বললেন, অনেক টাকা লাগবে নিশ্চয়ই। তবে টাকা যেমনই লাগুক না কেন, যদি ওদের চাহিদা পূরণ করা যায় তাহলে আবার আর্জেন্টিনাকে দেখা যাবে বাংলাদেশে। সালাহউদ্দিন চাইছেন এদেশের ফুটবল দর্শকদের আবারও মেসিদের খেলা চোখের সামনে দেখাতে। আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কোন দল, তা নিয়ে কথা হয়নি। কারণ আগে আর্জেন্টিনার আসার ব্যাপারে আলোচনা হোক তারপরও প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবা যাবে’ এ কথা বলেই সালাহউদ্দিন বললেন, ‘আমি তো চাই বাংলাদেশের সাথেই ম্যাচ খেলুক। না হয় পাঁচ গোল খাবো আমরা। একবার খেলি না আমরা।’ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন মেসির আর্জেন্টিনা। নাইজেরিয়ার সাথে ম্যাচ ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ব্যাপক সাড়া পড়ে ছিল সেবার। মেসিদের পায়ের ছাপ বঙ্গবন্ধুতে সেটা যারা দেখেছেন তারাও একটা সাক্ষি হয়ে রয়েছেন। রাত জেগে যারা ইউরোপিয়ান ফুটবলের ধন্ধুমার খেলা দেখেন তারা ঘরের উঠানে স্বপ্নের মেসিদের দেখতে চড়া মূল্যের টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে দেরি করেননি। মেসিরা বাংলাদেশে খেলার কারণে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্তত দুই শতাধিক দেশের ফোকাস ছিল। সরাসরি টেলিভিশনের সম্প্রচার হয়েছে খেলা। মেসি, হিগুয়েনরা বাংলাদেশে খেলার কারণে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ইমেজ বেড়েছে। আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপদ দেশ হিসাবে জেনেছে সবাই। তারই প্রমাণ, আবার বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। এখন দেখা যাক অর্থের প্রস্তাবটা সালাহউদ্দিন কতটা বহন করতে পারেন। তার উপর নির্ভর করছে ঢাকার মাঠে দ্বিতীয়বার মেসি দর্শন। শোনা গিয়েছিল আর্জেন্টিনা নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচটি আয়োজন করতে ৩৫ কোটি টাকা লেগে ছিল।