দ্বিতীয় ম্যাচে জয়

কোচ ছাড়াই ফিরছে ফুটবল দল

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৭
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ ফুটবল দল দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি জিতেছে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল থাইল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল। বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারিয়েছে তাদের। ৭৩ মিনিটে শাখাওয়াত হোসেন রনি গোল করেন। ম্যাচ জিতলেও খুশি না বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। কারণ এমনিতেই প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে থাই ক্লাব দলের কাছে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হেরেছে। তার উপর বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ নাকি আজ থাইল্যান্ড থেকে ফিরছেন না। তিনি ব্যাংকক থেকে হল্যান্ড ফিরে যাবেন। উদ্দেশ্য স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় ফেরা। আপত্তি নেই বাফুফে সভাপতির। কিন্তু ক্রুইফ দেশে ফিরে গেলে ব্যঘাত ঘটবে খেলোয়াড়দের অনুশীলনে। ক্রুইফ নাকি বাফুফেকে জানিয়েই যাচ্ছেন তিনি দেশে যাবেন এবং খুব শিঘ্রই ফিরবেন। হল্যান্ড যেতে লাগে দেড় দিন, আসতেও তাই। উনি তো গিয়েই ফিরে আসবেন না। আরো কয়েকদিন কাটবে মাঝে। তাতে ক্রুইফের ঢাকায় ফিরতে কম বেশি সময় লাগবে ১০ দিন। আর এই দশ দিন ফুটবল দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেনশনে আছেন বাফুফে সভাপতি। সাফ ১ সেপ্টেম্বর নেপালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ। সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ক্রুইফ ও তার সঙ্গীদের জন্য বছরে দুই কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করছে সালাহউদ্দিন। সাফের আগে প্রতিটি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। যে কারণে ঈদের ছুটিতে যেতে পারছেন না খেলোয়াড়রা। সাফের গুরুত্বের কারণেই খেলোয়াড়দের জন্য ১ দিন বরাদ্দ রয়েছে বলে জানা গেছে। ছাত্রের পরীক্ষার আগে গৃহশিক্ষক যেমন ছুটি নিতে পারেন না দায়বদ্ধতার কারণে। কিন্তু ক্রুইফ যেন তার উল্টোটা করছেন। এখনই ছুটি নিয়ে পরিবার আনতে ছুটে যাচ্ছেন দেশে। সাফের পর যাওয়ার জন্য ক্রুইফকে নাকি অনুরোধ করেছিলেন সালাহউদ্দিন। কিন্তু তা উপেক্ষা করেছেন ক্রুইফ। সালাহউদ্দিন জানান আমি ক্রুইফকে বলেছিলাম ওদেরকে (ক্রুইফের স্ত্রী) একা চলে আসতে জানিয়ে দাও। কিন্তু ক্রুইফ বলেছেন ওরা একা আসতে পারবে না। সাথে আমার তিন সন্তান রয়েছে।’ সালাহউদ্দিনের কাছে জানা গেল ক্রুইফ নাকি তার সহকারী রেনে কেস্তারকেও সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদ সাধায় ক্রুইফ রেনেকে রেখে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় বাফুফে সভাপতি একটা টেনশনে রয়েছেন। কারণ সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে পাঁচটা ম্যাচ খেলতে হবে। এর মধ্যে গ্রুপে তিনটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ রয়েছে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে কঠিন দলগুলোর সাথে পড়েছে। নেপাল, ভারত ও পাকিস্তানকে মোকাবেলা করতে হবে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী মালদ্বীপ কিংবা আফগানিস্তানকে মোকাবেলা করতে হবে। সবগুলোই কঠিন ম্যাচ। কোনো ম্যাচ খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। খারাপ করলে বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে। এমনটা যেন না হয় তার জন্য বাফুফে চাইছে প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে কোচের কাছে থেকে রশদ আদায় করে নিতে পারেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু কোচ যদি এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বাইরে যান তাতে বাংলাদেশেরই ক্ষতি এটা বলাই যায়।