পাবনার তাঁতিরা ঈদের কাপড় বুনতে ব্যস্ত

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৬
ঈদ এগিয়ে আসায় পাবনার তাঁতিদের দোকানগুলোতে নতুন কাপড় সরবরাহ করতে হচ্ছে। তাই চোখে এখন তাদের ঘুন নেই। দিন-রাত চলছে পরিশ্রম। তাঁতের কাজে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু থেকে সবাই। চরকায় সুতা তোলা, সুতা রং করা হচ্ছে। কারিগররা বুনোচ্ছেন কাপড়। ভীষণ ব্যস্ত তারা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাঁতের খট-খটানি শব্দ। পাবনা সদর উপজেলার জালালপুর, দোগাছি, ভাঁড়ারা, নতুনপাড়া, জাফরাবাদ, গঙ্গারামপুর, পীরপুর, আটঘরিয়া উপজেলার নগরচাচকিয়া, চাচকিয়া, গোপালপুরসহ সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় ১৫ হাজারের বেশি তাঁতি পরিবার রয়েছে। ঐসব তাঁতি পরিবারের প্রায় ১২ হাজার তাঁত রয়েছে। প্রায় এক লাখ মানুষ এই তাঁতের নানা কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে শাড়ী, লুঙ্গি ও গামছা তৈরি করছেন। বিশেষ করে সারা দেশে সদর উপজেলার দোগাছির শাড়ি ও পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাচকিয়া গ্রামের তাঁতিদের তৈরি লুঙ্গির কদর রয়েছে। পাবনা শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, তাঁতিদের তৈরি শাড়ী বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ’ পর্যন্ত এবং লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া আটঘরিয়া উপজেলার চাচকিয়া ও গোপালপুর গ্রামের তাঁতিদের তৈরি আশির সুতার লুঙ্গি প্রোসেস করার পর তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। সদর উপজেলার নতুন পাড়ার এক তাঁতি জানান, বর্তমানে এক থান (৪ পিচ) লুঙ্গি পাইকারি বিক্রি করতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৬০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮৬০ টাকায়। এই মূল্যে কাপড় বিক্রি করে খরচ বাদে অতি সামান্য লাভ হচ্ছে। তাঁতিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুতা, রংসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের তৈরি কাপড় বিক্রি করে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তারা লুঙ্গি ও কাপড় বিক্রি করে যে মূল্য পাচ্ছে তাতে তাদের কাপড় তৈরির খরচ উঠে সামান্য কিছু লাভ থাকছে। পাবনা জেলা তাঁতি সমবায় সমিতির সভাপতি কামরুল আনান রিপন জানান, তাঁতিদের কাপড় তৈরিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কারণ রং, সুতা, ক্যামিকেলসহ কাপড় তৈরির সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে গেছে।