ভিকারুননিসায় আনন্দের বন্যা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৮
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ভালো বিদ্যায়তনের সুনাম দীর্ঘদিনের। দেশে এবং ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফলে সেরা ১০ বিদ্যায়তনের তালিকায় এ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অবধারিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ভিকারুননিসা কলেজে সাফল্য উদযাপন মানেই- ছাত্রীদের বিজয়সূচক চিহ্ন দুই হাত তুলে অবিরত হাসি। একই ভঙ্গিতে ফটোসেশন। দল বেধে ঢোলের তালে স্বচ্ছন্দ নৃত্য। আর থেমে থেমে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিত্কার। এক বান্ধবী অপর বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানানো। গতকাল শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সাফল্য-আনন্দ উদযাপনে একটি বাদে এর কোনটিই বাদ যায়নি। রমজান বলেই ছাত্রীরা ঢোল বাজায়নি। বাকি সব ছিল একইরকম। জাতীয় পর্যায়ের ফলাফলে এবার পাস এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা-হার কমলেও ভিকারুননিসায় তা বেড়েছে। এছাড়া গত দুই বছরে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও এবার এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তাই আনন্দ উদযাপনের মাত্রা বাড়ে আরো কয়েক ধাপ। ২০১৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের পরীক্ষার্থী ছিল এক হাজার ৩৪৭ জন। দুইজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। বাকি ১ হাজার ৩৪৫ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক হাজার ৩৫ জন। র্যাংকিং পয়েন্ট ৯২ দশমিক ৫২ নিয়ে বোর্ডে অবস্থান তৃতীয়। কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম জানান, এ বছর ভিকারুননিসা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৮৬৫ শিক্ষার্থীর সবাই পাস করে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৬৫ জন। মানবিক বিভাগের ১৯৭ জন পাস করেছে এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৮৬ জন পাস এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৯৯ জন। কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা বরাবরই পড়াশোনায় ভালো। পরীক্ষায়ও ভালো করার সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা করেছে। তাদের প্রচেষ্টার সাথে শিক্ষক-অভিভাবকদের নির্দেশনা-বিশেষ যত্ন যোগ হয়েছে। সবমিলিয়ে সকলের সমন্বিত চেষ্টার কারণেই এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, গত দুই বছর বোর্ডে কলেজের অবস্থান চতুর্থ থাকলেও এবার তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। আরো ভালো হতে পারত। তবে ফলাফলে আমি খুশি। শিক্ষার্থীদের সাধারণ-ব্যবহারিক শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বোর্ডে শীর্ষ স্থান অর্জন শিগগিরই সম্ভব বলে তিনি আশা করেন।