বার্লুসকোনির সাজা বহাল

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৭
ইতালির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে সিনেটর সিলভিও বার্লুসকোনির ফের জালিয়াতির মামলায় চার বছরের কারাদন্ড বহাল রেখেছে দেশটি সর্বোচ্চ আদালত। প্রায় ৩০টি মামলার ২৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এই প্রথম কোন মামলায় উচ্চ আদালত তার কারাদণ্ড বহাল রাখল। সর্বোচ্চ আদালত তার সাজা বহাল রাখায় বিচার বিভাগের সংস্কার না করার সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন বালুর্সকোনি। গত বৃহস্পতিবার আদালত তার সাজা বহার রাখার পর গত শুক্রবার বার্লুসকোনি তার দল পিপল অব ফ্রিডমের (পিডিএল) এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, বিচার কার্যক্রমের সংস্কার না হলে তার দল নতুন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তার দলের পাঁচ মন্ত্রীও প্রয়োজনে পদত্যাগে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে ৭৬ বছর বয়সী ধনকুবের ও মিডিয়া মুগল বার্লুসকোনি সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেবেন। তিন মাস আগে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে মধ্য বাপপন্থি দলগুলো বার্লুসকোনির মধ্য-ডানপন্থি পিডিএলের সঙ্গে সরকার গঠন করে। ইউরোজোনের তৃতীয় বৃহত্তর অর্থনীতি ইতালি এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটে আছে। এখন বার্লুসকোনির দল জোট সরকার থেকে সরে গেলে ঋণ সংকটে জর্জরিত ইতালি আবার গভীর সংকটে পড়বে। তারপরও প্রয়োজনে তিনি তার প্রথম রাজনৈতিক দল ফরজা ইতালিয়ার ব্যানারে রাজনীতি চালিয়ে যাবেন এবং তার মেয়েকে দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তার আগেই তার রাজনৈতিক জীবন সমাপ্ত হয়ে যেতে পারে। ইতালির প্রেসিডেন্ট তার সাজা মওকুফের বিষয়টি গত মাসে প্রত্যাখ্যান করলেও কারাগারে স্থান সংকটের কারণে তার সাজা এক বছর করা হতে পারে। নিম্ন আদালত তাকে পাঁচ বছরের জন্য সরকারি পদে নিষিদ্ধ করেছিল। উচ্চ আদালত এটি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে নিম্ন আদালতকে। নিম্ন আদালত তাকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। কয়েকদিন পর বার্লুসকোনির সাজা কার্যকর হয়ে যাবে। তিনি কীভাবে এক বছর জেল খাটবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য তিনি এক মাস সময় পাবেন। গৃহবন্দি থাকা অথবা সমাজ সেবা করেও তিনি সাজা ভোগ করতে পারেন। ফৌজধারী অপরাধে বার্লুসকোনির সাজা কার্যকর হয়ে গেলে তিনি সিনেটের সদস্য থাকতে পারবেন কিনা কয়েক মাসের মধ্যে সিনেটই সেই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু তিনি ছয় বছরের মধ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে তিনি তার দলের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। তার মধ্য ডানপন্থি দল নির্বাচনে জয়লাভ করলে পার্লামেন্টের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারবে।